‘সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই’

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৪, ১১:২৩

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে বলা যায় বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা। সেটা মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে যেখানেই হোক না কেন। সংবাদ সম্মেলনেও তাই। আকর্ণবিস্তৃত হাসি নিয়েই আসলেন সাংবাদিকদের সামনে। তবে, প্রশ্ন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই অবশ্য সিরিয়াসনেসটা ঠিকই ফুটে উঠলো অধিনায়কের কণ্ঠে। স্বস্তি নয়, নতুন করে শুরু করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামার ঘোষণা দিলেন তিনি —
দুটো ম্যাচ জিতে গেছেন। তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে মনোভাবটা কেমন থাকবে?
আসলে প্রত্যেকটা ম্যাচইতো নতুন ম্যাচ। সবকিছুই নতুন করে শুরু করতে হবে, প্রথম থেকেই ভাল খেলতে হবে। অবশ্যই নতুন ভাবে শুরু করতে হবে। কারণ দুইদিনের একটা গ্যাপ গেছে। আবার নতুন একটা ম্যাচ এসেছে, সিরিয়াসলি নিতে হবে।
আগের দুটি ম্যাচ হয়েছিল চট্টগ্রামে। এবার খেলা ঢাকায়। সেটা কি কোন রকম পার্থক্য গড়ে দেবে?
চট্টগ্রামে যদিও স্পিনারদের জন্য সব সময় ভাল এসেছে। কিন্তু আমার মনে হয় মিরপুরের উইকেটটা স্পিনারদের জন্য করলে এটা স্পিনারে জন্য সহায়ক হয়। বেশি উঁচু-নিচু টার্ন বাউন্স বেশি করে। তো এক্ষেত্রে স্পিনারদের রোলটাই বেশি থাকবে। সব সময় বলেছি যেটা স্পিনারদের জন্য উইকেট হলেও পেসারদের ওখানে অনেক কাজ থাকে। যেগুলো স্পিনারদের আরও আক্রমণাত্মক হতে উইকেট পেতে সাহায্য করে। এই রোলটা সব সময় প্লে করতে হবে।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে কিছু পরিবর্তন ছিল। এবারও কি তেমনটা হতে পারে?
একটা পরিকল্পনা যেটা সাকিব এবং মুশফিক ফর্মে আছে তাদেরকে আমরা বেশিরভাগ ওভারই দিতে চাই। সেই চিন্তা করলে হয়তোবা ওই রকমই থাকতে পারে যদি আমাদের ওপেনিং জুটিটা হয়ে যায় অবশ্যই। সাকিবকে আমরা চিন্তা করতেই পারি, ও ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ও যদি আমাদের বেশিরভাগ ওভার খেলে সেটা দলের জন্য সব সময়ই ভাল। সেই সঙ্গে মুশফিকও। হয়তো বা সিদ্ধান্তটা জেনে বুঝেও নিতে হবে। হয়তোবা যদি ওপেনাররা এমন ইনিংস খেলতে থাকে তবে সাকিব-মুশফিককে নিয়ে এটা চিন্তা করা হবে।
দুটো ম্যাচ জিতে যাওয়ার পর রিল্যাক্স হওয়ার কোন সুযোগ আছে কি?
আমি আশা করি এখনও নেই। এবং দেখছিও নেই। এটা থাকাও খুব আনপ্রফেসনাল হবে। সিডিউলটা জানা থাকে খেলোয়াড়দের। সবার প্রস্তুতি ওভাবেই নেয়া। মোটামুটি একটা গ্যাপ পাওয়া গিয়েছে টেস্টের মাঝখানে। অবশ্যই টায়ার্ডনেসতো আসেই। সবাইকে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। আমার মনে হয় রিলাক্সের কোন জায়গা এখনও নেই। কেননা এখনও আমরা কোন সিরিজ জিততে পারিনি। প্রত্যেকটা দিনই উন্নতির জায়গা আছে। এখনও আমার মনে হয় না আমরা খুব ধারাবাহিক। ২টা ম্যাচে ছিলাম। অনেক জায়গা আছে যেখানে আমরা ভুল করছি। হয়তো এক জায়গা আছে আজ ভাল করছি কাল আবার খারাপ করছি । ভাল করার ধারাবাহিকতা বাড়াতে হবে। যখন একটা দল চাপে থাকে তখন তাদের সঙ্গে খেলে ধারাবাহিকতা বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপের আগে হাতে খুব বেশি সময় নেই। এর আগে সাকিবকে তিনে উঠানোর সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক?
ব্যাটিং অর্ডার স্বাভাবিক যেমন আছে, তেমনই থাকবে। এই ক্ষেত্রে চিন্তা করা হয়েছিল, সাকিব ফর্মে আছেম বেশিরভাগ ওভার খেলুক। এটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মুমিনুল তিন নম্বরে খেলবে। তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলছে এবং খেলবে। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে, সাকিব পাঁচেই খেলবে।
এখন যা হয়েছে, দলের মূল ব্যাটসম্যানদের আমরা যদি বেশিরভাগ ওভার নাই দেই, সেক্ষেত্রে আমার মনে হয়, এটা একটা বড় ক্ষতি হয়ে যাবে আমাদের। মূল ব্যাটসম্যানরা যদি বেশিরভাগ ওভার খেলতে না পারে তাহলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না বা লক্ষ্য আরেকটু এগিয়ে নেয়া যায় মূল ব্যাটসম্যানরা যদি ব্যাটিং করে। যে খেলোয়াড় ব্যাটিংয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে আলোচনা না করে নিশ্চই করা হয় না। আর তার নিজের কাছে যদি ভালো লাগে তাহলেই তা করে। এটা আলোচনার পরেই হয়েছে। সাকিব মূল খেলোয়াড়, তার সাথে আলোচনা না করে নিশ্চয়ই এটা নেয়া হবেও না।
উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা যদি বড় ইনিংস খেলে, মানে ২৫ ওভার বা ৩০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারে তখন সাকিব যদি পাঁচে যায়, আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। হয়তো বা ১০ ওভার বা ৮ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবে। মূল ব্যাটসম্যানকে এতো পরে খেলানো আসলে চিন্তার ব্যাপার। এটাই একটা চিন্তার বিষয়।
কোন জায়গা নিয়ে এখনও কাজ করার সুযোগ আছে কি?
সন্তুষ্টির কোনো জায়গা নেই। যেখানে আমরা ভালো সেখানেও উন্নতির অনেক জায়গা আছে। যেটা প্রত্যেকটা বড়গুলোই করে থাকে। আমি যদি, ধারাবাহিকতার অভাবের কথা বলি, প্রথম দিন টপ অর্ডার ভালো করেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে, ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন হয়েছে, তবে আমরা মিডলঅর্ডারে ভালো করিনি। বোলিংয়ে একই কথা। ফিল্ডিংয়ে হয়েছে, এর চেয়ে ভালো আমরা করে এসেছি আগে। এর চেয়েও ভালো করা সম্ভব। উন্নতি প্রতিটি জায়গায় করা সম্ভব। সেটা না করতে পারলে বিশ্বকাপে আসলে খুব কঠিন হবে।
কালই (আজ) কি সিরিজ জিতে যাওয়া সম্ভব?
আমরা প্রত্যেকেটি ম্যাচ জিততেই এসেছি। কালকের ম্যাচ আমাদের জিততে হবে। কালকের ম্যাচ জিততে আমাদের জন্য খুব সহজ হয়ে যাবে। কেউই চাইবে না হারতে। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবো।