বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে গণডাকাতি, শতাধিক জেলে অপহৃত

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৪, ২০:৫৭



পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে মাছ ধরার ট্রলারে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত জলদস্যু রাজা, ফরহাদ ও আলামীন নামে তিন বাহিনী সংগঠিত হয়ে জেলে বহরে হানা দিয়ে ১০টি ট্রলারসহ বাগেরহাট, শরণখোলা, পারেরহাটের চরখালী, পাথরঘাটা, কক্সবাজার ও বাঁশখালী এলাকা অন্তত শতাধিক জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে।

দস্যুরা ২০-২৫টি ট্রলারের জাল কেটে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। লুটে নিয়েছে আহরিত মাছ, জ্বালানি তেল, মোবাইল সেট ও অন্যান্য মালামাল। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩ কোটি টাকা। বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন, শরণখোলা মৎস্য সমিতি ও ব্যবসায়ী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় মৎস্য সমিতি শরণখোলা উপজেলার শাখার সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর তালুকদার জেলেদের বরাত দিয়ে বুধবার বিকেলে জানান, রাজা, ফরহাদ ও আলামীন বাহিনীর শতাধিক দস্যু ৩-৪টি ট্রলাযোগে এসে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত সাগরে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় তাণ্ডব চালায়। এ সময় বয়ার আশপাশে বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক ট্রলার মাছ ধরায় নিয়োজিত ছিল। দস্যুরা একে একে ট্রলারগুলোতে হানা দিয়ে প্রত্যেক ট্রলার থেকে একজন করে মাঝি, আহরিত মাছ, জ্বালানি তেল ও মোবাইল সেট তুলে নেয়।

ক্সবাজার ও বাঁশখালী এলাকার ১০টি ট্রলার নিয়ে গেছে। পরে ওই দস্যুরা সাগরে পেতে রাখা ২০-২৫টি জাল কেটে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। লুটে নেয়া সম্পদ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৩ কোটি টাকারও বেশি হবে।

অপহƒত জেলেদের মধ্যে শরণখোলার কামাল মোল্লা, আসাদুল, ফোরকান ও বাবুল মাঝির নাম জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এর বেশি তথ্য জানাতে পারেননি মৎস্য সমিতির ওই নেতারা।

এদিকে বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, তিনি সাগরে ডাকাতির খবর শুনেছেন। অপহƒতদের মধ্যে তার এলাকার কতজন জেলে রয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন কাজী মেহেদী মাসুদ জানান, তারা সাগরে ট্রলার ডাকাতি ও জেলে অপহরণের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন।