শফিউল হত্যা: পুলিশের ইউটার্ন, মামলার ভবিষ্যত নিয়ে সংশয়

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:৩০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যায় জঙ্গি ও জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পুলিশের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পুলিশের অবস্থান পরিবর্তনে মামলার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন অধ্যাপক শফিউলের একাধিক সহকর্মী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৃহস্পতিবার তারা প্রশ্ন তোলেন, শফিউলের প্রকৃত খুনীরা চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে তো?

এদিকে এই হত্যায় জড়িত সন্দেহে র‌্যাব-পুলিশের হাতে আটক চারজনকে পুলিশ আবারো রিমাণ্ডে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রাজশাহী মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার র‌্যাবের হাতে আটক যুবদল কর্মী ইব্রাহিম খলিল টোকাই বাবুকে তিন দিনের এবং পুলিশের হাতে আটক শিবিরকর্মী জিন্নাত, আরিফন ও সাগরকে আবারো দুই দিনের পুলিশ রিমাণ্ডে নেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার টোকাই বাবুকে ১০ দিনের এবং সোমবার জিন্নাত, আরিফ ও সাগরকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। এর আগে জিন্নাত, আরিফ ও সাগরকে দুই দফায় তিন দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া পুলিশের হাতে আটক আটজন এবং র‌্যাবের হাতে পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। র‌্যাবের হাতে আটক যুবদল নেতাকর্মী আরিফুল ইসলাম মানিক, আব্দুস সালাম পিন্টু, সিরাজুল ইসলাম কালু, সবুজ শেখ, মামুন হোসেনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য গত মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। আর জামায়াত কর্মী অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির, ফজলুল হক, মোশারফ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মশিউর রহমান, হাসিবুর রহমান, সাইফুদ্দিন, রেজাউল করিমকে প্রথম দফায় দুইদিন এবং দ্বিতীয় দফায় একদিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ২৪ নভেম্বর নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেছিলেন, ‘এই হত্যার মোটিভ এখনো উদঘাটিত হয়নি। জড়িত সন্দেহে র‌্যাবের হাতে আটক ছয়জনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে হত্যায় জঙ্গি ও জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। হত্যার পর দায়িত্ব স্বীকার করে ফেইসবুকে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে দেয়া স্ট্যাটাসে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মূল হোতা ছাত্রশিবিরের একনেতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কয়েকজন আটকের পর তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মোটিভ সম্পর্কে তড়িঘড়ি খোলামেলা বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও অধ্যাপক শফিউল হত্যায় জঙ্গি ও জামায়াত সংশ্লিষ্টতার প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অথচ দুইদিন পর ২৬ নভেম্বর আরেক প্রেসব্রিফিংয়ে আরএমপি কমিশনার বললেন, ‘পুলিশ তদন্তের পরিধি ছোট করে আনা হয়েছে। র‌্যাবের হাতে আটকদের স্বীকারোক্তির সূত্রে অধ্যাপক শফিউলের ব্যক্তিগত কারণই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

র‌্যাব জানায়, অধ্যাপক শফিউল হত্যায় ব্যবহƒত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার নগরীর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আটক করা হয়েছে। এই হত্যায় আটক টোকাই যার মালিক-চালক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টোকাই বাবু শিক্ষক হত্যায় সশস্ত্র খুনিদের বহনের সত্যতা স্বীকার করেছে। এরপর র‌্যাব অটোরিকশাটি খুঁজছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এই হত্যায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর ছয়জন যুবদলের, আটজন জামায়াতের, তিনজন ছাত্রশিবির নেতাকর্মী। হত্যায় সরাসরি জড়িত ১১ জনের আটজন যুবদলের (দুইজন পলাতকসহ), তিনজন ছাত্রশিবিরের। এছাড়া হত্যার সাড়ে তিনঘন্টা পর দায়িত্ব স্বীকার করে ফেইসবুকে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে স্ট্যাটাস দেয়ায় জড়িত বগুড়ার জামায়াত কর্মী শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবির কর্মী রায়হানুল ইসলাম স্বাধীনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অধ্যাপক শফিউলের বাসা থেকে উদ্ধারকৃত ছাত্রী ও তার বন্ধুকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় অধ্যাপক শফিউলকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরেরদিন নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এম এন্তাজুল হক।