ভাঙ্গুড়ায় মা মাছ রক্ষায় মৎস্য বিভাগের আহ্বান

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৪, ১৫:৫০
আজ শনিবার উপজেলার রুহুল বিলে বাউত (মাছ ধরতে হাজার লোকের সমাবেশ) নামায় ৫০ মেট্রিক টন মাছ খোয়া গেছে বলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রত্যেক ব্যক্তি গড়ে ৩ কেজি মাছ ধরেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। মাছগুলো দেশি প্রজাতির এবং বেশির ভাগ শোল, বোয়াল ও রুই। উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাশে রুহুল বিলের অবস্থান। এর  আয়োতন ৭৯ একর। এখানে বিপন্ন প্রজাতির দেশি শিং, মাগুর, গুলসা টেংরা, চিতল, স্বরপুঁটি, নয়না ও কৈ মাছের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এসব প্রজাতির মা মাছ রক্ষার জন্য শুকনো মওসুমে রুহুল বিলের ৫ একর জায়গায় সারা বছর পানি থাকার উপযোগী খনন করে অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে গত বছর বাংলাদেশ-জার্মান সরকারের সহযোগিতায় একটি জলাভূমি জীববৈচিত্র পুনঃরুদ্ধার প্রকল্প (ডব্লিউবিআরপি) বাস্তবায়ন করা হয়। এলাকার সুফলভোগী প্রায় ৩শ মৎসজীবী রয়েছেন যারা সরকারের নিকট থেকে প্রতিবছর বিলটি ইজারা নেন। কিন্তু বাউত নেমে মাছগুলো ধবংস করে ফেলছে। তারাও মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হলেন।
এলাকাবাসী জানান বন্যার পানি নেমে যাবার পর শত বছর ধরে রুহুল বিলে সপ্তাহে দু’দিন শনিবার ও মঙ্গলবার সকালে কয়েক হাজার লোক সমবেত হয়ে পলো, ফাঁস জাল ও নানারকম সামগ্রী নিয়ে মাছ ধরে আসছেন। ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, খরা মওসুমে বিল শুকিয়ে যাওয়ায় এখন সেখানে উফসী জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়। কিন্তু বন্যার সময় বিলে সরকারি ভাবে দেশি মাছের পর্যাপ্ত পোনা অবমুক্ত করা হয়। ফলে এখানে মা মাছের ভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে গৃহিত হয় ডব্লিউবিআরপি প্রকল্প ও বিলের মধ্যে নির্মাণ করা হয় মাছের অভয়াশ্রম। 
IMG0
তিনি বলেন, আজ শনিবার সকালে ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলার ২০/২৫ হাজার লোক (বাউত) একযোগে বিলে মাছ ধরতে নামেন। তারা বিপুল পরিমাণ মাছ শিকার করেন। বাউতের তারা খেয়ে ঐ অভয়াশ্রম এখন মা মাছে পরিপূর্ণ। তিনি বলেন আগামী মঙ্গলবার আবার বিলে বাউত নামবে। তাই তাদের হাত থেকে অভয়াশ্রমের মা মাছগুলো রক্ষার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। 
ভাঙ্গুড়া উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মো. শামছুল আলম বলেন, অভয়াশ্রম রক্ষায় ইতোমধ্যে স্থানীয় অধিবাসীদের সচেতনে এলাকায় ব্যাপক মাইকিং করা হয়েছে ও বিষয়টি পাবনার জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।।