মুক্তিযোদ্ধার ‘শেষ ইচ্ছা’ পূরণের পথে বাধা শুধু পাকিস্তান

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৪, ১৪:০৫

জাফর ফরাজী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার ‘শেষ ইচ্ছা’ বাইসাইকেলে চড়ে হজ্বে যাবেন। কিন্তু পাকিস্তান তাকে ভিসা দেয়নি। এর আগে তিনি আবেদন করে ভারত, ইরান ও আফগানিস্তানের ভিসা পেয়ে যান। কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ভিসার আবেদন পত্রে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয় লেখা থাকায় পাকিস্তান দূতাবাস তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর প্রতিবাদে তিনি ৬৪টি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা ষাটোর্ধ্ব জাফর ফরাজী বাইসাইকেলে দেশের ৪৮ জেলা পরিভ্রমণ শেষে এখন ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করছেন। তার উদ্দেশ্য দেশের ৬৪ জেলার প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের মানুষ ও সরকারকে তার দাবির ব্যাপারে জনমত সৃষ্টি করা।
গতকাল শনিবার ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় তিনি আরও বলেন, নিজের ভিটে-মাটি সব বিক্রি করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। সংসারে মন বসছিল না, তাই ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাইকেলযোগে দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হই। এ নিয়ে মোট ৪ বার বাইসাইকেলে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন তিনি। একবার ভারতের আজমীর শরীফ সাইকেলে চড়ে ঘুরে এসেছেন।
জাফর আলী ক্ষোভের সাথে বলেন, দেশের সকল গণমাধ্যমের মাধ্যমে পুরো দেশের মানুষকে আমি জানাতে চাই একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবেই আমি পাকিস্তানের ভিসা পেতে চাই। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে ভিসা দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান দূতাবাস। তার ছোট ছেলে দ্বীন ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, বাবাকে সংসারে ধরে রাখতে পারিনি আমরা। এলাকার উন্নয়নের জন্য নিজের সর্বস্ব খুইয়েছেন তিনি। সাভারের রানা প্লাজা ধসের সময় বাবা স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন।
মাদারীপুর জেলার কালাকিনী উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত আলম ফরাজীর ছেলে জাফর ফরাজী ১৯৭১ সালে কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মাদ সেলিমের নেতৃত্বে ৪নং সেক্টরে যুদ্ধে যোগ দেন। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি  বাইসাইকেলে বিশ্বভ্রমণ কর্মসূচি শুরু করেন। ঘুরতে ঘুরতে যদি পথে কোথাও মারা যান সে জন্য কাফনের কাপড় তার সাথে রেখেছেন।