বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

ক্যাম্পাসে বাস চাপায় ইবি শিক্ষার্থী নিহত, ৩০ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৫৮



ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বাস চাপায় তৌহিদুর রহমান টিটু নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কমপক্ষে ৩০টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত তৌহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খালিশপুর গ্রামে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে তৌহিদ ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহ যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা সাগর নামের গাড়িটিতে (কুষ্টিয়া জ-১১-০০৪২) ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু উঠতে ব্যর্থ হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। গাড়ির পেছনের চাকার নিচে পরে তার দেহ থেকে মাথা প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মুহূর্তেই এই সংবাদ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরে রাখা গাড়ি ও বিভিন্ন অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালাতে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত অর্ধশত রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রায় চার ঘন্টাব্যাপী ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতি হলেও প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। নিহত ছাত্রের লাশ উদ্ধারেরও প্রয়োজন মনে করেননি প্রশাসনের কেউ। লাশ ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ এবং কলা অনুষদের সামনে একটি ভেনের উপর পড়েছিল দীর্ঘক্ষণ। পরে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে  লাশ নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়াকরা ৩০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ১০টি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।’ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রক্টর প্রফেসর ড. ত ম লোকমান হাকিম বলেন, ‘এটি মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই ব্যথিত।’ ঘটনাস্থলে না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাকরি প্রত্যাশীসহ অপরিচিত অনেক দুস্কৃতিকারী ঘটনাস্থলে থাকায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় আমরা তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’