অষ্টম শতকে নির্মিত গভীর কূপের সন্ধান

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৫০

প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম পীঠস্থান কুমিল্লার কোটবাড়ি শালবন বৌদ্ধবিহারে চলছে খনন কাজ। এরইমধ্যে সন্ধান পাওয়া গেছে সম্ভবত অষ্টম শতকে নির্মিত একটি গভীর কূপের। এছাড়াও পাওয়া গেছে ময়ূর, খরগোশ ও সিংহের প্রতিকৃতি সম্বলিত টেরাকোটা (পোড়া মাটির চিত্র) ফলক। এর আগে শালবন বৌদ্ধবিহারের ৩৭ একর জায়গায় বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত খননকাজে ১০টি বৌদ্ধ মন্দিরসহ উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন। গত ১ নভেম্বর থেকে এখানে নতুন করে খনন কাজ চলছে, চলবে আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এখানে ৪০ জন শ্রমিক সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ করছে। বিহারের কেন্দ্রীয় মন্দিরের উত্তর-পূর্ব দিকে ৫ বর্গমিটার আয়তনের ২১টি বর্গাকৃতি স্থানে খননকাজ পরিচালনাকালে ইট ও কাদামাটি দিয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন একটি পানির কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাচীন এ কূপটির উপরিভাগ ১১ ফুট ৪ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গোলাকার। কূপটির গভীরতা নির্ণয়ের জন্য এর ভেতরেও খননকাজ    পরিচালনা করা হবে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত এ কূপের ৩ সারি ইটের কাঠামো পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রথম কূপ এবং প্রাচীনত্বের দিক থেকে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত কূপের পরেই এর অবস্থান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ময়নামতি জাদুঘরের কর্মকর্তা আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, ১৯৬৬ সালে শালবন বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন এলাকায় ময়নামতি জাদুঘর নির্মিত হওয়ার পর এখানে প্রাপ্ত প্রত্নসম্পদগুলো জনগণের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। তবে জাদুঘরটি ছোট পরিসরের হওয়ায় অনেক প্রত্নবস্তু অপ্রদর্শিত অবস্থায় আছে। আবিষ্কৃত কূপটি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সপ্তম বা অষ্টম শতকে নির্মিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা  গেছে, ১৯৫৫ সাল থেকে শালবন বৌদ্ধ বিহারে প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন আবিষ্কারের জন্য খনন কাজ পরিচালনা শুরু হয়। প্রায় চার বছর খনন কাজ চালানোর পর তা বন্ধ থাকে। প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল পর ২০০৬-০৭ অর্থবছরে  পুনরায় এ বিহারে খননকাজ শুরু করা হয়। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ মাসব্যাপী খনন কাজ পরিচালনাকালে বৌদ্ধবিহারে একটি ক্রুশাকৃতির মন্দির ও একটি স্তুপা আবিষ্কৃত হয় এবং পোড়া মাটির চিত্রফলক ও একটি বৌদ্ধ মূর্তিসহ বিভিন্ন টেরাকোটার প্রতিকৃতি ফলক পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে ছিল নবম থেকে এগারো শতকের বিভিন্ন ধরনের ৬৮টি টেরাকোটা ও মূর্তি। শালবন বৌদ্ধবিহারের সীমানার মধ্যে কমপক্ষে শতাধিক স্থানে খনন কাজ পরিচালনা করা হলে প্রাচীন সভ্যতার আরো অনেক নির্দশন পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।