‘আজই শেষ সুযোগ’

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১০:১৮

গুনে গুনে ৪৪ দিন—এর মধ্যে কোন জয় না আসলেও বাংলাদেশের কায়দা-কানুন থেকে শুরু করে ভাষার উপর ভাল একটা দখল চলে এসেছে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের। এই যেমনটা হলো গতকাল পঞ্চম ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা তখন শেষে দিকে। শেষ প্রশ্ন আসার পর উত্তর দিয়ে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা দু’হাত উপরে তুলে স্পষ্ট বাংলায় জিজ্ঞেস করলেন—‘শেষ?’
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে তখন একটা চাপা বিস্ময়। ভিনদেশীদের চমকে দিয়ে হ্যামিল্টনের মুখেও তখন হাসি। অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সে এই মাসাকাদজা তো দূরের কথা, দলের অন্য কারোরই মুখে হাসি থাকবার কথা নয়।
সেই কারণটাও কারও অজানা নয়। বাংলাদেশ সফরে এসে এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচেও জয় পায়নি জিম্বাবুয়ে দল। আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো দূরের কথা; কোন প্রস্তুতি ম্যাচেও নয়। শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে তাই আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্য একটা জয় খুবই প্রয়োজন জিম্বাবুয়ের। সেকথাটাই বললেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ‘অবশ্যই একটা জয় নিয়েই আমরা দেশে ফিরেতে চাই। মাত্র কয়েকটা ম্যাচেই আমরা জয়ের অবস্থায় ছিলাম। তবে, অধিকাংশ ম্যাচেই ওরা আমাদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে সফরটা আমাদের জন্য বাজে ছিল। এর চেয়েও যাতে ব্যাপারটা আরও খারাপের দিকে না যায় সেটাই আগামীকাল (আজ) চেষ্টায় থাকবে।’
আর সেই জয়ের উপায়টাও বাতলে দিলেন এই অল রাউন্ডার, ‘এমন নয় যে, সবগুলো ম্যাচেই ওরা সহজে জিতে গেছে। বেশ কয়েকটা ম্যাচে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা শেষ পর্যন্ত সেই ভাল খেলাটা ধরে রাখতে পারিনি। চতুর্থ ম্যাচে ৩২ রানের মধ্যে চারটি উইকেট চলে যাওয়ার পরও ওরা লড়াইয়ে ফিরে এসেছে। আমরা ওদের চাপে রেখেছি ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা ধরে রাখতে পারিনি। আজই শেষ সুযোগ। আজ আর ভুল করার সুযোগ নেই।’
আর জিম্বাবুয়ের জন্য বহু প্রতীক্ষিত সেই জয়ের পথে বাধা মূলত বাংলাদেশের স্পিনাররা। একই সাথে বাংলাদেশের পেসারদেরও প্রশংসা করলেন তিনি, ‘এখানকার স্পিনাররা বরাবরই ভাল বল করেন। তাদের নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে, এখন ওদের পেসাররাও ভাল করছে। তবে, সব সময় স্পিনাররাই তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে থাকেন। তবে, এতো ভাল পেস বোলিং আমরা আশা করিনি। বাংলাদেশের পেস বোলিং অ্যাটাক এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল। আর যত দিন যাবে, ততো এই ভালোর পরিমাণ বাড়বে।’
তবে, টানা পরাজয়ের মধ্যেও চলতি ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে নিজেদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে মানছেন সলোমন মিরেকে। পেস বোলিং আর ব্যাটিং দিয়ে এবারের সিরিজেই অভিষিক্ত এই খেলোয়াড় বেশ ভাল ভাবেই নিজের জাত চেনাতে পেরেছেন। আর এই প্রাপ্তি আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বেশ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ‘হ্যা, অবশ্যই ওর কথাটা একটু আলাদা করে বলতেই হয়। কন্ডিশনের সাথে দারুণ ভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছে ও। মাত্র ক’দিন হলো অস্ট্রেলিয়া থেকে ও খেলে এসেছে। তাই অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপে ওর আরও ভাল পারফরম্যান্স দেখার জন্য মুখিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। আমার মতে সিরিজে এটাই আমাদের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওর মত একজনকে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।’