অধ্যাপক শফিউল হত্যা: ৫ জন রিমান্ডে

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৮:০০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম লিলন (৫০) হত্যা মামলায় র‌্যাবের হাতে আটক ৫ যুবদল নেতাকে মঙ্গলবার দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৭ নভেম্বর প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আকতার তাদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরা হলেন, কাটাখালী পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনকি সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিক, যুবদল কর্মী আবদুস সামাদ পিন্টু, সবুজ শেখ, সিরাজুল ইসলাম কালু ও আল মামুন। তবে পুলিশের হাতে আটক শিবির কর্মী আরিফুর রহমানকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
প্রসঙ্গত, রিমান্ডে আসামিরা র‌্যাব-পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অধ্যাপক শফিউল হত্যার পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। কিন্তু আদালতে গিয়ে তারা জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করে। এছাড়া তাদের সহযোগী ইব্রাহিম খলিল টোকাই বাবুও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেছে। আরএমপি’র গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেলেই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে।
এদিকে, অধ্যাপক শফিউল হত্যার রহস্য উম্মোচন ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে  মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও সমাবেশ রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসান মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডে, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ফয়জার রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ারদাতুল আকমাম ও শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বারী প্রমূখ বক্তব্য দেন। সঞ্চালনায় করেন সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, ‘হত্যাকা-ের ১৭ দিন পরেও আমরা অন্ধকারে রয়েছি। পুলিশ খুনীদের এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি। আমরা খুনীদের গ্রেফতার দেখতে চাই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমাদের রক্তক্ষরণ বন্ধ হোক। রক্তক্ষরণ চলছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত অধ্যাপক শফিউলের খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা বন্ধ হবে না।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ ভাড়া বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম খুন হন। পরে ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে র‌্যাব ছয় যুবদল নেতাকে এবং পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করে।