কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় তিতাস নদী দখল করে দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধভাবে মাছ ধরে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করছে কতিপয় অসাধু মাছ চাষী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর দুই পাশ জুড়ে গাছের ডালপালা ফেলে বাঁশ দিয়ে সেগুলো আটকিয়ে কচুরিপানা ঢেকে জাঁক (মাছ আটকানোর স্থানীয় পদ্ধতি) দেয়া হয়েছে। উপজেলার চরের গাঁ থেকে শুরু করে রামকৃষ্ণপুর পর্যন্ত এরকম শতাধিক জাঁক রয়েছে।
জেলে কিংকুর দাস জানান, নদীতে সারা বছরই এসব জাঁক থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে এতে নতুন করে গাছের ডালপালা ফেলা হয়। এসব ডালপালার জাঁকের ভিতর এসে মাছেরা আশ্রয় নেয়। পরে চারদিকে মশারি জাল আটকিয়ে ঘের দিয়ে এর ভিতর থেকে মাছ ধরা হয়। প্রতিটি ঘের থেকে ভাগ্য ভাল হলে দু্ই থেকে তিন লাখ টাকার মাছ পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।
এদিকে এভাবে মাছ ধরার ফলে নদীতে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা চলাচলে বিঘ্ন ঘটাসহ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে লঞ্চের কয়েকজন সারেং জানান, রাতের আঁঁধারে অনেক সময় ভুলবশত এসব কচুরিপানার জাঁকের ওপর উঠে গেলে লঞ্চের ক্ষতি হয়। এছাড়া অনেক সময় ঘেরের মালিকরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জোরপূর্বক ক্ষতিপূরণ আদায় করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহমেদ জানান, নদীতে জাঁক তৈরি করে ও মশারি জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব বন্ধে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
