রাঙ্গুনিয়ার সংরক্ষিত বনের কাঠ যাচ্ছে ইটভাটায়

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৫৬

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইট ভাটার মালিকেরা বলছেন, কয়লার অভাবে কাঠ দিয়েই ইট পোড়াতে হচ্ছে। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ায় জমে উঠেছে চোরাই জ্বালানি কাঠের ব্যবসা। রাঙ্গুনিয়া এবং রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করছে ইট ভাটাগুলোতে। পরিবেশবিদগণ বলছেন, এতে দু’ভাবে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে-একদিকে বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একশরও বেশি ইটভাটা চলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই।

ইটভাটায় পাচারের জন্য রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা, রোয়াজারহাট, ইছাখালী, চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট, চন্দ্রঘোনা বুইজ্যার দোকান এলাকাসহ অনেক স্থানে গড়ে  উঠেছে চোরাই কাঠের মজুদ। রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের চিরিঙ্গা, খুরুশিয়া, সুখবিলাস বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইছামতি খালের রোয়াজারহাটস্থ স্লুইস গেটের নিকটে এবং চন্দ্রঘোনা দেওয়াঞ্জীরহাট খেয়াঘাটের কাছে কর্ণফুলি নদীর তীরে প্রকাশ্যে মজুদ গড়ে তুলে চোরাই জ্বালানি কাঠের রমরমা ব্যবসা করছে একশ্রেণির ব্যবসায়ী। কাপ্তাই পাল্পউড বিভাগের বাগান উজাড় করা চোরাই কাঠ ফেরিযোগে কর্ণফুলি পার করা হচ্ছে। এরপর চাঁদের গাড়িযোগে নির্বিঘ্নে সেই কাঠ চলে যাচ্ছে দক্ষিণ নিচিন্তাপুর মৌজায় শেখ রাশেল এভিয়ারী পার্ক পরিবেষ্টিত ৯টি ইটভাটায়। মঘাইছড়ি, গাফতল, ইসলামপুর, ঠান্ডাছড়ি, দক্ষিণ রাজানগর, বগাবিলি এবং কাউখালি এলাকায় কমপক্ষে ৪০টি ইটভাটায় প্রতিদিন পাঁচ হাজার টনেরও বেশি চোরাই জ্বালানি কাঠ যাচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন মজুদ কেন্দ্র ছাড়াও ঘাগড়া এলাকার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে চোরাই কাঠের চালান যাচ্ছে এসব ইটভাটায়। রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ, লালানগর, দক্ষিণ রাজানগর ও ইসলামপুর এলাকার ২৫টি ইটভাটায় মরিয়মনগর ডিসি সড়ক দিয়ে জ্বালানি কাঠ যাচ্ছে চাঁদের গাড়িসহ অন্যান্য বাহনযোগে।
কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলি রেঞ্জের কাপ্তাইখাল মুখ, আড়াছড়ি, চিত্মরম, রামপাহাড় এবং সীতাপাহাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চলছে কাঠ পাচারের রমরমা ব্যবসা। আর চোরাই কাঠ পাচারকারীদের সহায়তা করে চলেছে বন বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মী। হোসনাবাদ মোগলের বাড়ি গ্রামের মীর্জা ওমরা মিয়া বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, সেইসঙ্গে চোরাই জ্বালানি কাঠ পরিবহনের ফলে গ্রামের রাস্তাঘাটগুলোও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে রাঙ্গুনিয়ার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার উত্তর রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ৪টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা বিপুল দাস ইটভাটায় কাঠ পাচারের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কাঠ পাচার প্রতিরোধে শীঘ্রই অভিযান শুরু করা হবে।