বিয়ে করলে সাহস বাড়ে: রেলপথমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৪, ১২:৪৪
রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি রশিকতা করে তার বৈবাহিক জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যে কোন পুরুষের বিয়ে করলে সাহস বাড়ে। যারা বিয়ে করে নাই, তাদের সাহস নাই। আমি চান্দিনায় বিয়ে করার আগে চান্দিনার প্রাণ পুরুষ আমাদের বড় ভাই অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি’র সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করায় তিনি বলেছিলেন- ‘আর দেরি কইরো না, তারা-তারি সাইরা ফেল’। তার কথামত আর দেরি করলাম না। আর বিয়ে কইরা দেহি সাহস অনেক বাইড়া গেছে। 
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার চান্দিনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি’ তিনটি মূলমন্ত্র লালন করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তার নিজ আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো অন্য কোন সংগঠনের এতো ঐহিত্য নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগ তাদের ঐহিত্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, যে ছাত্ররা ছাত্রলীগ নীতি বহি:র্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে তারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কোন যোগ্যতা রাখে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রনেতারা ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র মনে লালন করে দলের যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে। 
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব এর সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা এ.এফ.এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আওয়াল সরকার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এম. হুমায়ূন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রায়। 
সকাল ১১টায় শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ.এম. বদিউজ্জামান সোহাগ। 
তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘যে ছাত্ররা কোর্ট-টাই পড়ে রাজধানীতে বসে রাজনীতি করবে বা কুমিল্লার বাহিরে লেখাপড়া করবে সেই ছাত্ররা কুমিল্লা উত্তর জেলা কমিটিতে জায়গা পাবে না। যারা দলের যে কোন মুহূর্তে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে এবং সংগঠনকে গতিশীল রাখবে সেই ছাত্ররাই কমিটিতে আসবে। 
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম বাহার, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ সরকার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সহ-সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন শিশির, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ। 
দুই অধিবেশনে সম্মেলনের অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করলেও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে কমিটি ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বাবু।