ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

শ্রমিক-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ৪০ কিমি যানজট

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:২২

ছাত্রলীগ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দেয়া হলে ৪০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

অভিযোগ করা হয়েছে, পদুয়ার বাজার এলাকায় স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী দুলাল হোসেন অপুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে উল্লেখিত গ্রুপটির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুরে ছাত্রলীগ কর্মী অপুর নেতৃত্বে পরিবহন শ্রমিক নেতা মোতাহের হোসেন ও মোহাম্মদ আলীকে মারধর করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবহনের শ্রমিকরা নগরীর জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর এলাকায় রাস্তায় এলোপাতাড়িভাবে যাত্রীবাহী বাস রেখে দুপুর সোয়া একটার দিকে ব্যারিকেড দেয়। এর ফলে উভয়দিকে শত শত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অচলাবস্থার সময় যানজট চরম আকার ধারণ করে। মানুষের দুর্ভোগ ছিল অবর্ণনীয়।

পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য শাহ আলম বলেন, শ্রমিক নেতার ওপর হামলা ও চাঁদা দাবির কারণে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হই। ছাত্রলীগ কর্মী দুলাল হোসেন অপু জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে শ্রমিক নেতাদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে স্থানীয়রা অবস্থান নেয়ায় পরিবহন নেতা-কর্মীরা এ ঘটনা ঘটায়। হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হলে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শ্রমিকরা ব্যারিকেড তুলে নিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আহত দুই শ্রমিক নেতাকে নগরীর জেনারেল (সদর) হাসপাতাল ও একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।