সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার

পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়েছে শেয়ারবাজার

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:৩৪
গেল সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজার আগের সপ্তাহের পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে। গেল সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ২১ শতাংশ। একইসঙ্গে সার্বিক মূল্যসূচকও নিন্মমুখী ধারা থেকে বের হয়ে ইতিবাচক ধারায় চলে এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বর শেষে অনেক কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা আসবে। এ প্রত্যাশায় শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এছাড়া ডিএসই’র লেনদেন পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সংবাদও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক কোম্পানির শেয়ার দর আগের সপ্তাহে কমে তুলনামূলক লাভজনক পর্যায়ে আসায়ও এ সপ্তাহে শেয়ার ক্রয় বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইডিএলসি’র বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গেল সপ্তায় লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য ছিল। তাই দাম বৃদ্ধি ও লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ফোন, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, মবিল যমুনা এবং স্কয়ারফার্মার নাম তালিকায় উঠে এসেছে। আর বড় মূলধনী কোম্পানি হওয়ার সূচক বৃদ্ধিতে এ কোম্পানিগুলোর অবদানও ছিল অনেক বেশি।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গেল সপ্তাহে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ বা ১৮৯ পয়েন্ট। আর ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ সপ্তাহে সবচেয়ে আশার দিক হলো লেনদেন বৃদ্ধি। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসই’র লেনদেন ২৬৩ কোটি টাকায় নেমে যায়। এ সপ্তাহের শেষদিকে তা পাঁচশ’ কোটি টাকার উপরে উঠে আসে। এতে এ সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের ৩২৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৯৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বস্ত্র খাতের। এ খাত ঘিরে লেনদেন হয়েছে ডিএসই’র মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ। এছাড়া ওষুধ খাতে লেনদেন হয়েছে ডিএসই’র মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। জ্বালানি খাত ঘিরে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ব্যাংকিং খাত ঘিরে লেনদেন হয়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। এদিকে গেল সপ্তাহে ডিএসই’র লেনদেনে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর (এন ক্যাটাগরি) অবদান ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ অবদান ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরি কোম্পানির। এ কোম্পানিগুলোর অবদান প্রায় ৮১ শতাংশ। আর ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানিগুলোর অবদান প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ।
এদিকে গেল সপ্তাহে ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় বাড়ার কারণে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ১৭ দশমিক  ৯৪ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৭ দশমিক ১৭ পয়েন্ট। সপ্তাহশেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৬ দশমিক ৯ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৩১ দশমিক ৬ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ২৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৪ দশমিক ২ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৬ দশমিক ১ পয়েন্ট, এবং বস্ত্র খাতের পিই ১১ দশমিক ৮ পয়েন্ট।