শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে সোমবার হরতাল

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:১৬

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার কলেজিয়েট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শনিবার  দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার খাগড়াছড়ি ও মানিকছড়িতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পক্ষান্তরে সোমবার মানিকছড়িতে সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। জেলার সকল বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি নেতাদের।
শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে  আজ সকালে মানিকছড়িতে প্রধান  প্রধান সড়ক অবরোধ করে পাহাড়ি-বাঙালি সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভের কারণে সকাল সাড়ে ১০টা হতে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।  এসময় শত শত যাত্রী মানিকছড়ি এলাকায় আটকা পড়ে।
এদিকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি শহরে  বিক্ষোভ  করেছে মারমা জনগোষ্ঠির শতশত মানুষ। পানখাইয়াপাড়া হতে মিছিলটি বের হয়ে শহর পদক্ষিণ করে। বিক্ষুদ্ধ বিক্ষোভকারীরা মহাজনপাড়ায় একটি আবাসিক হোটেল, কিছু দোকানপাট ভাংচুর করেছে।
মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন. মারমা নেতা বাশরী মারমা, মংসাপ্রু মারমা, কংচাইরি মাস্টার, আপ্রেসী মারমা। বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়িতে এ প্রথম কোন শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হল। বক্তরা এঘটনার জন্য  ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে জেলার মানিকছড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় মানিকছড়ি কলেজিয়েট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মানিকছড়ি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চিংসামং চৌধুরী নিহত ও জনসংহতি সমিতির মানিকছড়ি উপজেলা সভাপতি মংসাজাই মারমা ওরফে জাপান বাবু গুলিবিদ্ধ হন।
একই রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পানছড়িতে স্বামী-স্ত্রী ও গুইমারায় এক যুবক আহত হন।
এদিকে খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস থেকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের নের্তৃত্বে  শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং  দলীয় অফিসের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় চিংসামং চৌধুরীর হত্যাকারীদের  আগমী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান নেতারা।