প্রায় ৯ ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকা-ঈশ্বরদি রুটে চলাচলকারী রাজশাহী এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনের ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এই রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রবিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনের সয়াদাবাদে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে ট্রেনটি সরিয়ে নিলে ঢাকা-উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশ, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে ঈশ্বরদি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় ঈশ্বরদি-ঢাকা রুটে চলাচলকারী রাজশাহী এক্সপ্রেস মেইল ট্রেন-৫৫১। সকাল সোয়া ৮টার দিকে ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন পার হওয়ার পরে এর ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় যাত্রীরা নিরাপদে ট্রেনটি থেকে নেমে পড়েন। বঙ্গবন্ধু সেতুতে প্রবেশের একমাত্র রেলপথে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সাথে উত্তর ও দক্ষিনবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঈশ্বরদি থেকে আসা একটি উদ্ধার ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রায় ৯ ঘণ্টার উদ্ধার কাজ শেষে বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে লাইনচ্যুত হওয়া ইঞ্জিন ও বগিগুলো সরিয়ে নিলে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) এর মহা-ব্যাবস্থাপক (জি এম) আব্দুল আওয়াল। এ সময় তিনি রেলওয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান, বিভাগীয় প্রকৌশলী (যন্ত্র) কামরুজ্জামান, বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিগনাল) মিজানুর রহমান ও বিভাগীয় প্রকৌশলী (পথ) মনিরুল ইসলাম। এই কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জিআরপি (রেলওয়ে) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) হায়দার আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
