হারিস সোহেলের ব্যাটে পাকিস্তানের জয়

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৯:১৩



দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূরণের মাধ্যমে সোমবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত দিবারাত্রির প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানকে তিন উইকেটের জয় পাইয়ে দিয়েছেন নবাগত ক্রিকেটার হারিস সোহেল।

২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সোহেল ১০৯ বলে ৮৫ রান সংগ্রহ করেন। শুধু তাই নয়, সপ্তম উইকেট জুটিতে অল রাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে ১১০ রান যোগ করার মাধ্যমে সংকটে পড়ে যাওয়া পাকিস্তানী দলকেও বিপদমুক্ত করেন সোহেল। আফ্রিদি ৫১ বলে যোগ করেন ৬১ রান। এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নিয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।

জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেয়া ২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে গিয়ে মাত্র ৪০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। এরপর সোহেল ক্রিজে নেমে প্রথমে অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহশালায় যোগ করেন ৩৪ রান, যেখানে অধিনায়কের যোগান ছিল ১৩ রান। এরপর তিনি সরফরাজ আহমেদকে (২৬) সঙ্গী করে যোগ করেন আরো ৩৮ রান। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে এসে জয়ের জন্য যখন ১৩ বলে ১৩ রানের প্রয়োজন, তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান আফ্রিদি। শেষ পর্যন্ত কিউই পেসার জিমি নিশামের বল বাউন্ডারি ছাড়া করে তিন বল হাতে রেখেই পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সোহেল। এদিন ক্যারিয়ারের ৩৭তম হাফ সেঞ্চুরি হাঁকাতে গিয়ে ৭টি বাউন্ডারীর সহায়তা নেন আফ্রিদি।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের প্রথম এবং ক্রিকেট বিশ্বের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরপর তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো রস টেইলর নিউজিল্যান্ডকে পৌঁছে দেন ২৪৬ রানে। পাকিস্তানের জহির আব্বাস ও সাঈদ আনোয়ার, দক্ষিন আফ্রিকার হাসেল গিবস, এবিডি ভিলিয়ার্স ও কুইন্টন ডি কক এর আগে এই কীর্তিটি গড়েছিলেন।
জবাবে শুরু থেকেই নড়বড়ে ব্যাটিংয়ের কারণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। মাত্র ৬ রান সংগ্রহ করার পর মোহাম্মদ হাফিজ মাঠ ছাড়েন। এরপর দলীয় সংগ্রহ ৫০ রান পার হবার আগেই একে একে সাজঘরের দিকে ফিরতে থাকেন আসাদ শফিক (৫), আহমেদ শেহজাদ (২৮) ও ইউনিস খান (৪)।
ম্যাচের ৫ম ওভারেই কিউই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন পেসার কাইল মিলস। তিনি ফিরিয়ে দেন হাফিজকে। এরপর ড্যানিয়েল ভেট্টোরি দু’টি এবং নিশাম এক উইকেট দখল করেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে টেনে তুলে আনেন সোহেল ও আফ্রিদি।
ম্যাচটিকে কঠিন বলেই খেলা শেষে মন্তব্য করেছেন পাক অধিনায়ক মিসবাহ। তিনি বলেন,‘ এটি ছিল খুবই কঠিন একটি ম্যাচ। ব্যাট হাতে সোহেল এবং আফ্রিদি আমাদের টেনে তুলে আনার জন্য পুরো নম্বরই পাবে সোহেল ও আফ্রিদি। অপরদিকে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন মনে করেন টেইলরের সেঞ্চুরিটিকে কাজে লাগাতে পারেনি তার দল। তিনি বলেন,‘ আমি মনে করি রসের (টেইলর) অসাধারন নৈপুণ্যে স্কোর বোর্ডে সংগৃহীত লড়াকু ইনিংসটিকে কাজে রাগাতে না পারাটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। আমরা বল হাতে আমাদের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারিনি। অপরদিকে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার দারুনভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।’
এদিকে প্রথমে ব্যাটিং পাওয়া নিউজিল্যান্ড মোহাম্মদ ইরফানের বোলিং দাপটে কোনঠাসা হয়ে পড়ার পর ব্যাট হাতে দলটিকে একাই সামলেছেন টেইলর। ৫৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানী বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেন ইরফান।
সপ্তম উইকেট জুটিতে সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভিট্টোরিকে সঙ্গী করে ৫৮ রান যোগ করেন টেইলর। যেখানে ভিট্টোরির যোগান ছিল ২৭ রান। এর আগে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে টেইলর লুক রঞ্চিকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ৪৪ রানের আরেকটি মাঝারি মানের পার্টনারশীপ। যেখানে রঞ্চির যোগান ছিল ২৩ রান। ইরফান তার প্রথম ৫ ওভারের স্পেলেই ফিরিয়ে দেন কিউই ওপেনার ডিন ব্রাউনলি (১৪) ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে (১০)। ৩৮ তম ওভারে বল হাতে ফের ফিরে আসার পর তিনি রুচির উইকেটটি দখল করেন।
স্কোর:
নিউজিল্যান্ড ইনিংস :
এ ডেভচিচ ক আহমেদ ব রিয়াজ ২৬
ডি ব্রাউনলি ক শেহজাদ ব ইরফান ১৪
কে উইলিয়ামস ক আহমেদ ব ইরফান ১০
আর টেইলর অপরাজিত ১০৫
টি লাথাম রান আউট ১৩
জে নিশাম এলবিডব্লিউ ব আফ্রিদি ১
এল রঞ্চি ক ইউনিস ব ইরফান ২৩
ডি ভেট্টরি ব রিয়াজ ২৭
এন ম্যাককালাম অপরাজিত ১৩
অতিরিক্ত:(বা ১, লেবা ৪, নেব ১, ও ৮) ১৪
মোট: (৭ উইকেট; ৫০ ওভার) ২৪৬
উইকেট পতন: ১-২৬, ২-৪৪, ৩-৬৩, ৪-৯৯, ৩-১১১, ৬-১৫৫, ৭-২১৩।
বোলিং: গুল ৯-০-৪৯-০, ইরফান ১০-১-৫৭-৩(ও-৩), রিয়াজ ১০-০-৫১-১(নেব-১,ও-১), সোহেল ১০-০-৩৯-০(ও-৩), আফ্রিদি ১০-১-৩৬-১(ও-১), শফিক ১-০-৯-০।
পাকিস্তান ইনিংস:
মোহাম্মদ হাফিজ বল মিলস ৬
আহমেদ শেহজাদ এলবিডব্লিউ ব ভেট্টরি ২৮
আসাদ শফিক ক ডেভচিচ ব নিশাম ৫
ইউনিস খান ক ব্রাউনলি ব ভেট্টরি ৪
হারিস সোহেল অপরাজিত ৮৫
মিসবাহ উল হক ক ভেট্টরি ব নিশাম ১৩
সরফরাজ আহমেদ ক মিলনে ব ম্যাককালাম ২৬
শহিদ আফ্রিদি রান আউট ৬১
ওয়াহাব রিয়াজ অপরাজিত ৯
অতিরিক্ত:(লেবা ১, ও ১২) ১৩
মোট (৭ উইকেট, ৪৯.৩ ওভার) ২৫০
উইকেট পতন: ১-১৩, ২-৪০, ৩-৪০, ৪-৫২, ৫-৮৬, ৬-১২৪, ৭-২৩৪।
বোলিং: মিলস ১০-২-৫৪-১, মিলনে ১০-০-৪২-০(ও ১), ভেট্টরি ১০-০-৪০-২, নিশাম ৯.৩-০-৬২-২(ও ৬), ম্যাককালাম ৮-০-৩৫-১, ডেভচিচ ২-০-১৬-০(ও ৫)।
ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান