লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের লতিফপুরে আটকের পর ইউনিয়ন যুবদল কর্মী রনিকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। তবে পুলিশ বলেছে সোলাইমান উদ্দিন জিসান বাহিনীর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলিতে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন পুলিশ সদস্য।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১১টায়। নিহতের বাবা মুকবুল আহমদ ও উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কুতুব উদ্দিন মাষ্টার জানান, রনি চন্দ্রগঞ্জের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যুবদল করার কারণে পরিকল্পিতভাবে পুলিশ গুলি করে তাকে হত্যা করেছে। তারা জানান, সোমবার বিকেলে পুলিশ লক্ষ্মীপুর ও বেগমগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকার কন্টোক্টর ব্রীজ নামক স্থান থেকে তাকে আটক করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে তার দুই চোখ বেঁধে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে। রাতে চন্দ্রগঞ্জের মোস্তফার দোকান নামক স্থানে গুলি করে তাকে হত্যা করে। নিহতের বাবা আরো দাবী করে বলেন, রনির বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা নেই। সে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তানহা ইঞ্জিনিয়ারিং ও রনি ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক। আমার ছেলে পুলিশকে চাঁদা না দেয়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেছেন তিনি। এদিকে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবির রনিকে হত্যার কথা অস্বীকার করে জানান, সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারের লতিফপুর এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সোলাইমান উদ্দিন জিসান বাহিনীর জিসানকে ধরতে রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এসময় পুলিশ প্রায় ২১ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এতে সন্ত্রাসী জিসান বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রনি নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে রাতে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। মামলা নেই বলে রনির বাবা দাবি করলেও ওসি বলেন, রনির বিরুদ্ধে তার থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম, প্রজেসকান্তি ও মোহাম্মদ আলী আহত হন।
