বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূসক হার কমানো যেতে পারে। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘মূল্য সংযোজন কর আইন ২০১২: উদ্বেগ ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ বক্তব্যের সমর্থন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
২০১৫ সালের জুলাই থেকে এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার, ২০১২ সালে জাতীয় সংসদে আইনটি পাস করা হলেও ব্যবসায়ীদের বাধায় সরকার আইনটির বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া পিছিয়ে দেয়। বুধবার আয়োজিত বৈঠকেও এর বিরোধিতা করেন ব্যবসায়ীরা। নতুন ভ্যাট আইনে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য (ধাপে ধাপে যুক্ত হওয়া) উঠিয়ে একক ভ্যাট আরোপের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা তুলে দেয়ার কথাও রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও ব্যাংক একাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার বিধান ও রয়েছে। এ বিষয়গুলোর তীব্র বিরোধিতা করেন তারা।
এ আইন প্রণয়নের সাথে যুক্ত পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, প্যাকেজ ভ্যাটের মাধ্যমে বছরে মাত্র ৯ কোটি টাকা আদায় হয়। এ টাকা দিয়ে দোকান মালিকরা মনে করেন যে তারা সরকারকে বড় কিছু দিয়ে ফেলেছে। এ টাকা সংগ্রহ না হলে দেশের কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা নয় কোটি টাকা ট্যাক্স দিল না, নয় হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স দিল তা বিবেচ্য নয়। তিনি বলেন, আমরা ট্যাক্স দিতে চাই, তবে অত্যাচারিত হতে চাই না। যাদের কাছ থেকে টাকা নেবেন তাদের সঙ্গে ভালো কথা বলুন, ভালো সম্পর্ক রাখুন। এখন আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট হচ্ছে, তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট যদি হয়, তাহলে সবাইকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হবে। আমরা বাঁচতে চাই, ট্যাক্সও দিতে চাই। তিনি বলেন, বর্তমান ভ্যাট ও ট্যাক্স আইনের মাধ্যমে যদি দেশ না চলে, তাহলে সরকার এত বড় বাজেট কী ভাবে প্রণয়ন করে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ট্যাক্স দেয় বলেই দেশ চলে। ভ্যাট ও ট্যাক্সের আওতা বাড়ে না বলে যারা নিয়মিত ট্যাক্স দেন তাদেরই বেশি হয়রানি করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী জামান বলেন, সংকুচিত ভিত্তিমূল্য উঠিয়ে দিলে সর্ব পর্যায়ে সমান ভ্যাট দিতে হবে। এতে করে করের ওপর আরো কর আরোপ করা হবে, যা পরোক্ষ ভাবে ভোক্তাকেই বহন করতে হবে। আমরা সকলেই চাই সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়ুক কিন্তু নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তার জন্য গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরো অংশ গ্রহণ করেন এনবিআরের সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মজিদ, সাবেক সদস্য শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
