নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শীতে জবুথবু ছিন্নমূল মানুষ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:১৯

নীলফামারী কিশোরগঞ্জে হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবুু হয়ে পড়েছে মানুষসহ প্রাণীকূল। গত মঙ্গলবার থেকে সূযের্র দেখা মিলছেনা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে এলাকার পথঘাট। বাস ট্রাকসহ আন্যান্য যানবহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। তীব্র শীতের ছোবলে শীতার্ত মানুষগুলো পুরনো কাপড়ের দোকানে ভীড় করছেন। ছিন্নমূল মানুষ গাছের শুকনো পাতা জ্বালিয়ে শরীরে উত্তাপ নিচ্ছে। তবে শীতে বেশী কাবু হয়ে পড়েছে বৃদ্ব ও শিশুরা। ডাইরিয়া, নিইমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্তান্ত হয়ে পড়েছে শিশুরা। ফলে হাসপাতালে প্রতিদিন এসব রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিদার রসুল জানান গত মঙ্গলবার থেকে শীতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে কেউ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে ৪৯৪ পিস কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব মানুষের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। শিগগির বিতরণ করা হবে। কিন্তু শীতার্তদের অভিযোগ এবারে মৌসুমের অনেক আগে শীত নামলেও তাদের পাশে এখন পর্যন্ত কেউ দাঁড়ায়নি। জিও, এনজিওগুলো কিছু গরম কাপড় বিতরণ করলেও তারা তাদের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।
চাঁদখানা ইউনিয়নের নগরবন গ্রামের মনছের আলী (৯০) বলেন,  ‘এরকম ঠাণ্ডা বাহে মুই জীবনেও দেখোনাই। সব সময় খালি আগুনের গোরত বসি থাকিবার মনায়। কাহো মোক একখানা কম্বলও দেয় নাই।’  
বাহাগিলী ইউনিয়নের কেচুয়ানী মাই (৮০) বলেন,  তীব্র শীতে বাহিরে বেরানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গরম কাপড় কেনার সামর্থ না থাকায় খরকুটো জ্বালিয়ে শরীর তাপাতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সরকারিভাবে যেটুকু কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিন্ত এ উপজেলায় শীতার্ত মানুষের সংখ্যা বেশী হওয়ায় চেয়ারম্যান মেম্বারা তালিকা করতে হিমশিম খাচ্ছে।