‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:৫২

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় ও তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রসহ আর্ন্তজাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয় ও ভরণ পোষণ করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ড্যান মজিনা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পরিদর্শনে আসলে সরকারি কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। শিবিরের সরকারি কর্মকর্তা ও আর্ন্তজাতিক ৪টি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে কৌশল বিনিময় করেন। দুপুর ১টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত তিনি তালিকাভুক্ত শরণার্থীদের ফুড সেন্টার, হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে রুদ্ধধার বৈঠক করেন। বৈঠকে শরণার্থীরা রাষ্ট্রদূতকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করেন। রাষ্ট্রদূত তাদের উত্থাপিত সমস্যা ও দাবিগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের সাথে যৌথ ভাবে কৌশল বিনিময় করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুতুপালং শরণার্থী ইনচার্জ সরওয়ার আলম। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত কুতুপালং শরণার্থী শিবির সংলগ্ন রোহিঙ্গা বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য উক্ত বস্তি এলাকায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, রাষ্ট্রদূত আমাদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে বলেন, ইতিমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দুইবার মিয়ানমার সফর করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানালেও এখনো মিয়ানমার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এরপরও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে জাতিসংঘে এব্যাপারে ৩ বার আলোচনায় অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের আরো ভাল উন্নত পরিবেশে সরকারের যে পরিকল্পনা তাতে সাড়া দেয়ার জন্য শরণার্থীদের মার্কিন রাষ্ট্রদূত আহ্বান জানান। এ সময় সফর সঙ্গী হিসেবে কক্সবাজারস্থ ভারপ্রাপ্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ফজলুল করিম চৌধুরী, কুতুপালং শরণার্থী শিবির ইনচার্জ সরওয়ার আলম, বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি মি. জউ, ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি নাজুমূল হক, ইউএনএইচসিআরের হেড অব ডাইরেক্টর মুরসি মুন, কক্সবাজার সাব-অব হেড মেমো, ইউএসএইডের ইয়ে নিনাসহ সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।