পাবনার ঈশ্বরদী ও বেড়া থেকে শ্রীলংকায় চাল রফতানি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঈশ্বরদী সরকারি খাদ্য গুদাম, মুলাডুলি খাদ্য গুদাম ও বেড়া খাদ্য গুদাম হতে শ্রীলংকায় রফতানির জন্য অটো রাইস মিলের চাল চট্রগ্রামের হালিশহরে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে পাঠানো হচ্ছে। রফতানির উদ্দেশ্যে বুধবার রাত পর্যন্ত ঈশ্বরদী খাদ্যগুদাম থেকে ১৮০ মেট্রিক টন, মুলাডুলি খাদ্য গুদাম থেকে ৬০ মেট্রিক টন এবং বেড়া থেকে ১০৫ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। সরেজমিনে ঈশ্বরদী ও মুলাডুলি খাদ্যগুদাম ঘুরে দেখা যায়, বৃহস্পতিবারও ট্রাকে চাল বোঝাই করা হচ্ছে।
পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারিভাবে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল শ্রীলংকায় রফতানির জন্য চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলার দুইটি খাদ্য গুদাম থেকে ৫৫০ মেট্রিক টন এবং বেড়া হতে ৩০০ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৮ ডিসেম্বর থেকে চাল পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব চাল বহনকারী ট্রাক চট্রগ্রাম হালি শহরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে চাল পৌঁছে দিচ্ছে। সেখান থেকে সমুদ্র পথে রফতানিকৃত চাল শ্রীলংকায় যাবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা খাদ্য গুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা এম এ মাজেদ জানান, ঈশ্বরদী খাদ্য গুদাম থেকে ২৫০ মেট্রিক টন চাল শ্রীলংকায় পাঠানোর নির্দেশনা এসেছে। ইতিমধ্যে ১৮০ টন চাল পাঠানো হয়েছে। আরও পাঠানোর জন্য রাত-দিন ট্রাক বোঝাই চলছে। মুলাডুলি সরকারি খাদ্য গুদামের ম্যানেজার জানান, ৬০ মেট্রিক টন চাল ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বাকি ২৪০ মেট্রিক টন চাউল পাঠানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, বিগত মৌসুমে সংগৃহীত সরকারের খাদ্যগুদাম গুলোতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যেই আবারো ২০১৪-১৫ মৌসুমের চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় গুদামগুলোতে বিগত মৌসুমের চাল মজুদ থাকায় ২০১৪-১৫ মৌসুমের সংগৃহীত চাল রাখার স্থান সংকুলান অপ্রতুল ছিল। অর্থাত্ বিগত সময়ে চাহিদা পূরণের পরও খাদ্য গুদামে বিপুল পরিমাণ মজুদ থাকায় সরকার শ্রীলংকার সাথে চাল রফতানির চুক্তি স্বাক্ষর করে। সূত্র জানায়, অটো রাইসমিল যে সকল রয়েছে সেসব এলাকার খাদ্য গুদাম হতে সরকারের মজুদকৃত ভালমানের চাল শ্রীলংকায় পাঠানো হচ্ছে।
