অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, ‘সরকার বিনিয়োগকারীদের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে চায় না। উপরন্তু ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে।’ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্বয়ংক্রিয় লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন লেনদেন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ডিএসই নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন।’ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ডিএসইর নেক্সট জেনারেশন অটোমেটেড ট্রেডিং সিস্টেম উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন, ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা, নাসডাকের এমডি রবার্ট ফ্রিজ, ফ্লেক্সট্রেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেন মাইকেল বাঙ্কোসহ আরো অনেকে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘সরকার দেশের অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন করতে আগ্রহী। ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত এবং ন্যায়বিচার-নির্ভর সমাজ গড়তে চাই। এ জন্য অর্থনীতির যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন, আমরা তা করছি।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শুধু ব্যবসায়ীবান্ধব নয়, ভোক্তাবান্ধবও। ভোক্তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। সে উদ্দেশ্যেও আমরা কাজ করছি।’
‘ডিএসইর অটোমেশন সরকারের ডিজিটাল প্রতিশ্রুতির অংশ’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার আগে ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ডিএসইর লেনদেন স্বয়ংক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।’
বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন বলেন, ‘নতুন এ ট্রেডিং সিস্টেম বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। ডিএসইর এ অটোমেশনের মাধ্যমে লেনদেন আরো দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে হবে। দেশের শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের বাজারে ঝুঁকছে। তারা আমাদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নতুন লেনদেন ব্যবস্থায় তারাও আগ্রহী হবে।’
‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি রয়েছে’ উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সহায়তা দিয়ে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন সিস্টেমটি চালু করা হয়েছে। ব্রোকারদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই এটি চালু হলে কোনো শঙ্কা থাকবে না। আগামী এপ্রিল থেকে এই সিস্টেমের আওতায় মোবাইল ফোন ও আইপ্যাডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করতে পারবেন। এপ্রিলের মধ্যে এ সিস্টেমের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও আইপ্যাডে লেনদেন উপযোগী সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে।
জানা গেছে, নাসডাক ওএমএক্স ও ফ্লেক্সট্রেড ব্যবহারকারীদের (ব্রোকার এবং বিনিয়োগকারী) জন্য সহজ এবং নিরাপদ হবে। তবে নতুন ব্যবস্থায় কোনো বিনিয়োগকারী নিজ ব্রোকারেজ হাউসের যেকোনো অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ বা শাখা থেকে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন না। প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য একটি ব্রোকারেজ হাউসের শাখা ও একজন বা একটি গ্রুপভুক্ত অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্দিষ্ট থাকবে। কোনো বিনিয়োগকারীকে ওই নির্দিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস ও নির্দিষ্ট বা গ্রুপভুক্ত অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভের মাধ্যমে শেয়ার কেনা বা বেচার অর্ডার দিতে হবে। এতে এক সঙ্গে অনেক কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন ওঠানামা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন তারা।
