রাজশাহী কলেজের ৩ ছাত্রীর মৃত্যু

আটকের চার ঘণ্টা পর জামিনে বাস চালক-হেলপার

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:৩৫

নগরীর উপকণ্ঠে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজশাহী কলেজের ৩ ছাত্রী নিহতের ঘটনায় পুলিশের মামলায় ১ ড্রাইভার ও ২ হেলপার আটকের চার ঘণ্টা পর জামিন পেয়েছেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তারা জামিন পান। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন—দুর্ঘটনা কবলিত ‘ইসলাম পরিবহনে’র বাসের ড্রাইভার আব্দুল বাতেন ও হেলপার ইমরান হোসেন এবং রাজশাহী কলেজের ভাড়া করা বাসের (লাকি পরিবহন) হেলপার ইজাবুল হক। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক আবুল হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নগরীর মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় নগরীর শিরোইল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আসামি আব্দুল বাতেন, ইমরান হোসেন ও ইজাবুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সকাল ১০টায় তাদের দুর্ঘটনার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টায় ৩ আসামিকে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে হাজির করা হয়। ২ তরফা শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শারমিন আকতার আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সূত্র মতে, এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর মেহেরচণ্ডি দক্ষিণপাড়া থেকে পুলিশ লাকি পরিবহনের বাসের ড্রাইভার আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত বুধবার দুপুরে একই আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে শুনানি শেষে আব্দুর রাজ্জাক জামিন লাভ করেন। এদিকে গ্রেফতারে পর অভিযুক্ত ২ বাসের চালক ও হেলপারের জামিনে মুক্তির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হবিবুর রহমান। মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য তিনি দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অধ্যক্ষ আরো জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সকল দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য শিগগিরই ৪ টি বাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ টি বাস কেনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর কাটাখালীতে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাজশাহী কলেজের ছাত্রীদের বহনকারী বাস খাদে উল্টে পড়ে ৩ ছাত্রীর মৃত্যু ও ৩০ ছাত্রী আহত হয়।