আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সভা-গণমিছিল

আশুগঞ্জে আবারো ১৪৪ ধারা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৩:২৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে একই সময় বিভক্ত দুই গ্রুপ সভা ও গণমিছিল আহ্বান করায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। শনিবার ভোর ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়সহ পুরো শহর ও আশে পাশের এলাকায় এ ধারা বলবৎ থাকবে। শহরের দলীয় কার্যালয়, রেলগেট, গোল-চত্তর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সোনারামপুর হাইওয়ে রোড এলাকা এ বিধি-নিষেদের আওতাধীন থাকবে।
উপজেলা প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা অওয়ামী লীগের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। গত বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী লীগের বধির্ত সভায় সাবেক সভাপতি হাজী মো. সফিউল্লাহ মিয়াকে আহ্বায়ক, আবু নাসের আহম্মেদ ও মো. হানিফ মুন্সিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখান করে দলীয় কার্যালয়ে এক সমাবেশে উপজেলার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মুন্সিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। এনিয়ে শহরে পক্ষে বিপক্ষে মিছিল ও সমাবেশ হয়। শুক্রবার রাতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে দুই পক্ষই  শনিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ ও গণমিছিল আহ্বান করে।  উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে তলব করে বিষয়টি সমাধানের ব্যর্থ চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন শুক্রবার রাত ১১টায় মাইকিং করে এ বিধি-নিষেধ আরোপ করে।
গত এক মাসে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে উপজেলা সদর এলাকায় এনিয়ে তিন বার ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা ঘটলো।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর ১৪৪ ধারা জারির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শহরের শান্তি শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চার প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধীপ কুমার সিংহ জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় সেখানে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।