শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জিসি দেবের পৈতৃক বাড়িটি গত ৪৩ বছর ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক জটিলতা এবং দখলদারদের প্রভাবে দীর্ঘদিন পরও বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ড.জিসি দেবের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের নন্দিরফল গ্রামে।
২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বুদ্ধিজীবী ড. জিসি দেবকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২০০৮ সালে ড. জিসি দেব মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। তার পদক গ্রহণের কেউ না থাকায় নিজ কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদকটি সযত্নে রাখা হয়েছে। আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি আসলেই জিসি দেবের বাড়ি উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু দিবসটি চলে গেলেই ঐতিহাসিক এই বাড়িটি উদ্ধারে আর কেউ কথা বলে না। স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যান জিসি দেব এবং তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি।
সরেজমিন জানা যায়, ড. জিসি দেবের বাড়িতে দখলদার হিসাবে যারা রয়েছে তারা সকলেই স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মদদপুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্দোবস্তপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জমি কিনে মালিকানা স্বত্বে বসতঘর তৈরি করে তারা এখানে বসবাস করছে। তবে সীমানা নির্ধারণ ও ভোগ দখল নিয়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে দখলদারদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দখলদার জানায়, ড. জি সি দেবকে তারা চেনেন না। ড. জিসি দেবের বাড়ির সামনে স্থাপিত লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তার সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধিকে জানান। স্কুলটির পেছনে বিশাল পরিমাণ জমি নিয়ে ড. জিসি দেবের বাল্য স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটির অবস্থান হলেও এলাকার অনেক শিক্ষার্থীই ড. জিসি দেবের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আশা প্রকাশ করে বলেন, শেষ বয়সে যেন জিসি দেবের বাপের ভিটাটা দখলমুক্ত হয়েছে দেখে যেতে পারি। স্থানীয়রা জানান, ড. জিসি দেব স্মৃতি রক্ষা কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও ড. জিসি দেবের বাড়িটি দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তাদের কারো উদ্দেশ্যই মহত্ ছিল না। ড. জিসি দেব স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব ছরওয়ার হোসেন বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদে আমাদের আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ড. জিসি দেবের বাড়ির ২ দশমিক ৪৭ একর ভূমি ইউনিয়ন তহসিলদার এবং ভূমি জরিপের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবৈধভাবে শত্রু সম্পত্তির আওতায় নিয়ে যান। প্রায় ২০ বছর পূর্বে ভূমি কর্মকর্তারা এটি বন্দোবস্ত প্রদান করেন। বিগত সেটেলমেন্ট জরিপেও একই ধারায় বাড়িটি রেকর্ডভুক্ত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এপিএস দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল জানান, বাড়িটি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিল এ বিষয়ে জানান, বাড়িটি অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘদিন থেকে দখল করে রেখেছে। দখলমুক্ত করতে আমরা সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।