ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পৌনে এক কিলোমিটার সড়ক ভারতের ছিটমহল পুঁটিমারীর মধ্যে পড়েছে। এই সড়কের একপাশ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা রয়েছে। পঞ্চগড় পিডিবি (পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড) এই বিদ্যুতের লাইন টেনেছে। পুঁটিমারী ছিটমহলের পাশে বাংলাদেশের গাইঘাটা, ধনীপাড়া, মাগুড়াপাড়া, মনিরামপুর জোড় ও সোনাপাড়া গ্রাম। এই গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়ন করেছে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুত্। রাতে এসব গ্রামের বিদ্যুতের আলো যখন পুঁটিমারী গ্রাম থেকে দেখা যায়, তখন তাদের চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। তারা অপেক্ষা করছে, কবে ছিটমহল বিনিময় হবে। কবে পাবে বিদ্যুত্ সংযোগ।
ভারতের পুঁটিমারী ছিটমহলের মতো অপর ১১০টি ছিটমহলের চিত্রও একই। বাংলাদেশের ভেতর ভারতের ছিটমহল গারাতির সর্বমঙ্গল কমিটির চেয়ারম্যান মফিজার রহমান বলেন, বিদ্যুত্ নেই বলে আমরা আমাদের সন্তানদের রাতে পড়াশুনা করাতে পারি না। ছিটমহলের বাসিন্দারা গরীব বলে প্রতিদিন কেরোসিন দিয়ে বাতি জ্বালানোর মত সামর্থ্য তাদের নেই। রাতের বেলায় রান্নার কাজ শেষ করে কোনরকম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এমন অবস্থা ছিটমহলের বেশিরভাগ বাসিন্দার।
পঞ্চগড় পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ভারতের ছিটমহলগুলোতে বাংলাদেশ কোন বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়নি। তবে ছিটমহলগুলো বিনিময় হলে এর মালিকানা বাংলাদেশ পাবার পর সেখানে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া যেতে পারে। ছিটমহলগুলোতে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হবে কী না— এটি বাংলাদেশের জাতীয় সিদ্ধান্ত।
পক্ষান্তরে ভারতের ভেতর অবস্থিত বাংলাদেশের ছিটমহল শাঁখাতি ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়েছে। জলপাইগুঁড়ি থেকে ডাঙ্গাপাড়া হয়ে শাঁখাতিতে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। শাঁখাতির নূরুর রহমান, ফারুক, রবি, রোশনাসহ অন্তত ২০টি বাড়িতে এই প্রতিবেদক ঘুরে দেখেছেন তাদের বাড়িতে এখন বৈদ্যুতিক পাখা, টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি চলছে। ভারতের ছিটমহল পুঁটিমারীর বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন জানান, পঞ্চগড়ে বিদ্যুত্ আনার জন্য জাতীয় গ্রীড (ন্যাশনাল গ্রীড) পুঁটিমারী ছিটমহলের উপর দিয়ে গিয়েছে। এই বিদ্যুতের লাইন দিয়ে পঞ্চগড়বাসী আলোকিত হলেও তারা শুধু ছিটমহলবাসী হওয়ার কারণে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহলের সংখ্যা ১৬২। এর মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল আছে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতে। এসব ছিটমহলে বসবাসকারী জনসংখ্যা ৫১ হাজার।
