রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বডিগার্ড আফজাল হোসেন ওরফে গালকাটা সাত্তার (৫০) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার হাজারীবাগ তিন মাজার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাত্তার ছিলেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি।
পুলিশ জানিয়েছে, সাত্তার হাজারীবাগ থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা অশ্রু হত্যাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাবাস শেষে ছয় মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এলাকার আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপের হাতে নিহত হয়েছেন তিনি। তবে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
নিহত সাত্তারের ছোট ভাই আব্দুল মোতালেব জানান, সাত্তার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বাসা থেকে ভাত খেয়ে বাইরে বের হন। এরপর হেঁটে হাজারীবাগের (ঝিগাতলা) তিন মাজার মসজিদ গেটের সামনে পৌঁছালে সেখানে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। চারটি গুলি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে তার অপর ভাই সাইদুল ও ছেলে ইশতিয়াকসহ অন্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পৌনে তিনটার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাজারিবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম জানান, সাত্তারের বিরুদ্ধে থাকা ১৪টি মামলার মধ্যে ১০টি হত্যা মামলা।
সূত্র জানায়, সাত্তারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু ১৯৯৭ সালে। তার নিয়ন্ত্রণে চলতো হাজারীবাগের ট্যানারীর চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজির বিরোধের জের ধরে তার প্রতিপক্ষ আলতু মিয়া নামে এক যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে নেন সাত্তার। পরবর্তীতে আলতুর সহযোগীরা সাত্তারকে ধরে ছুরি দিয়ে তার গাল কেটে দেয়। এরপর থেকেই সাত্তার এলাকায় গালকাটা সাত্তার নামে পরিচিতি পান।
