শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলে ফের শর্ত শিথিলতা চান ব্যাংকাররা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:২৬
 
 
 
 
শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলে শর্ত আবারো শিথিল করার আবেদন জানিয়েছে ব্যাংকগুলো। সমপ্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ আবেদন জানান ব্যাংক নির্বাহীরা। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের লোকসানের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার সময়ও এক বছর বাড়িয়ে আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর কৃষি ও শিল্প খাতের শ্রেণিকৃত ঋণ পুনতফসিলের শর্ত শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কয়েক দিন আগে (১৮ ডিসেম্বর) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের ঋণ পুনঃতফসিলের শর্তে শিথিলতা আনে সংস্থাটি। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ১৫ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট (এককালীন নগদ জমা) দিয়ে শ্রেণিকৃত ঋণ নবায়ন করার সুযোগ পান। এই শিথিলতা ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত শর্ত শিথিলতার সময় ১৮ হাজার ৫৫১  কোটি টাকার শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণই ছিল বেশি। এর পরও ব্যাংক খাতের শ্রেণিকৃত ঋণ কমেনি, বরং বেড়েছে। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিক শেষে ব্যাংক খাতের শ্রেণিকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১১.৬০ শতাংশ। এসব ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি।
প্রসঙ্গত, শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে নিম্নমানে (সাব-স্টান্ডার্ড) শ্রেণিকৃত সেগুলোকে খেলাপি ধরা হয় না। তবে সন্দেহজনক (ডাউটফুল) ও ক্ষতিজনক (ব্যাড/লস) মানে শ্রেণিকৃত হলে সেগুলোকে খেলাপি ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ঋণ খেলাপি ব্যক্তি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবে নিম্নমানে শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে এমন ব্যক্তি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
এদিকে, শর্ত শিথিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কিছু কিছু শ্রেণিকৃত ঋণ সহজ শর্তে পুনঃতফসিল করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। ব্যাংকার্স সভায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা তুলে ধরে আরো ঋণ পুনতফসিলের শর্ত শিথিলের দাবি করেন ব্যাংক নির্বাহীরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের অধিকাংশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দুটো দাবিই রাখার আশ্বাষ দেয়া হয়েছে বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইষ্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার।
ব্যাংকার্স সভায় লিখিত বক্তব্যে গভর্নর বলেন, ‘চলতি বছর সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় থাকলেও ব্যাংক খাতে শ্রেণীকৃত ঋণ প্রতি প্রান্তিকেই সামান্য করে বেড়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’ ব্যাংক নির্বাহীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বছরের শেষ প্রান্তিক ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন  এটাই আশা করছি। এ জন্য আদায়ের ওপর সর্বশক্তি প্রয়োগ করুন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় কয়েকজন ব্যাংক নির্বাহী অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার বিরোধীতা করে নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে গ্রাহকের উপর চার্জ আরোপ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তা নমনীয় পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ছাড়া ব্যাংকের সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাশুল আদায় না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সুদ হার ও স্প্রড কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়।
সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে প্রচলিত নিয়ম মেনেই। সোনালী ব্যাংকের কাছে যেসব ব্যাংকের স্বীকৃত বিলের পাওনা রয়েছে তা এক মাসের মধ্যে কমিয়ে আনা হবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোর হিসাব থেকে কেটে রাখা হবে।