তেল অপসারণ অব্যাহত, বনজীবীদের অলস সময়

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:২৫

সুন্দরবনের শেলা নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে বন বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বনের গাছের গোড়ায় জমে থাকা তেল পানি ছিটিয়ে অপসারণের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সোমবার শরণখোলা এলাকায় সুন্দরবনের নদী ও খালে কচুরিপানা ছড়ানো হয়েছে। এগুলোতে ভাসমান তেল লেগে গেলে তা তুলে নিয়ে অপসারণ করা হবে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারি থেকে আন্ধারমানিক পর্যন্ত আরও ১২ কিলোমিটার নতুন এলাকায় তেল অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজে বন সংলগ্ন মংলা উপজেলার ৮ গ্রামের মানুষ অংশ নিয়েছে।

অপরদিকে তেল বিপর্যয়ের পর সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকার কয়েক হাজার বনজীবী পরিবারের অলস সময় কাটছে। সুন্দরবন সংলগ্ন মংলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি, জয়মনিরঘোল, চরেরখাল এবং কাটাখালী গ্রামের কয়েক জেলের সাথে কথা হয়।
জয়মনি গ্রামের বাসিন্দা জেলে আয়ুব আলী (৪০) বলেন, শেলা নদীতে বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা এবং সাদা মাছ শিকার করে আমার সংসার চলে। কিন্তু গত ৯ ডিসেম্বর দুপুরের পর এই নদীতে থোকা থোকা তেল ভেসে আসতে শুরু করে। ওই সময় আমরা কয়েকশ জেলে মাছ শিকার করছিলাম। ওই তেল দেখে আমরা নদী থেকে জাল তুলে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি। ওই দিনের পর আমরা আর নদীতে জাল ফেলতে পারিনি। সংসার চালাতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
কাটাখালী গ্রামের অরবিন্দু রায় (৪২) বলেন, নদীতে তেল ভাসার পর আমরা জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছি। আমাদের কিছু  পরিবার নদীতে ভেসে থাকা তেল সংগ্রহ করে এবং বনভািগের কাজে অংশ নিয়ে কিছু টাকা রোজগার করছে। তবে বড় অংশই হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আমাদের চুলায় হাঁড়ি চড়বে না।
মংলার চিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, এই ইউনিয়নে তিন থেকে চার হাজার পরিবার সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। নদীখালে তেল ছড়িয়ে পড়ার পর তারা বর্তমানে নদীতে জাল ফেলা বন্ধ রেখেছে। তবে এর মধ্যে বেশকিছু পরিবার তেল তোলার কাজে যোগ দিয়েছে। ওই তেল বিক্রি করে অনেকে ভাল টাকা রোজগার করছে। আর যারা তেল তুলতে পারছে না তারা বেকার হয়ে বসে আছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আমির হোসাইন চৌধুরী  বলেন, জেলেদের সংসার চালাতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে বর্তমানে বেকার বসে থাকা আড়াই শতাধিক  জেলেকে টাকার বিনিময়ে কাজে নেয়া হয়েছে। তারা কাজ করছে এবং নদীতে ভেসে থাকা তেল তুলেও কিছু জেলে পরিবার ভাল টাকা আয় করছে। তবে জেলে বা বনজীবীদের এ সমস্যা সাময়িক।
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, বনের গাছের গোড়ায় জমে থাকা তেল অপসারণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নেয়া হলেও তা খুব একটা কার্যকরী হচ্ছে না। শ্যালো ইঞ্জিনের মাধ্যমে বনের খাল ও নদী থেকে অনাবরত পানি সেপ্র করলেও গাছে লেগে থাকা ঘন তেল কিছুতেই দূর হচ্ছে না। এ অবস্থায় তারা পানি সেপ্র বন্ধ রেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। চাঁদপাই ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার আবুল কালাম আজাদ জানান, বনের প্রতিটি খালের মুখের পয়েন্টে বন বিভাগের নিয়োজিত শ্রমিকরা দৈনিক চারশ’ টাকা মজুরির ভিত্তিতে তেল অপসারণ করছে।  বন রক্ষীরা সার্বক্ষণিক এই শ্রমিকদের তেল অপসারণের কাজ তদারকি করছে।
ঘসিয়াখালী চ্যানেল দ্রুত চালুর দাবি

শেলা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং মংলা-ঘসিয়াখালী চ্যানেল দ্রুত চালুর দাবি করেছেন সেভ দ্যা সু্ন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। গতকাল মংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুন্দরবন সুরক্ষায় পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনেরও দাবি জানান। এ সময় তার সাথে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান সিএইচআরএম-এর চেয়ারম্যান ড. মো:  জিয়াউর রহমান ও ব্যারিস্টার জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।