মণ প্রতি তুলার দাম ৬’শ ২০ টাকা কমানোয় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে রাস্তায় তুলা ছিটিয়ে ও আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তুলা চাষিরা। বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ - যশোর মহাসড়কের বারোবাজারে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন করে তারা। চাষিরা রাস্তার উপর তুলা ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
চাষিরা জানায়, গত বছর তুলার উন্নয়ন বোর্ড প্রতিমণ বীজতুলার দাম ধার্য করেছিল ২৫’শ ২০ টাকা। এবার দাম কমিয়ে ১৯’শ টাকা মণ ধার্য করেছে। নভেম্বর মাস থেকে তুলা ঊঠতে শুরু করেছে। কিন্তু তুলা কেনার লোক মিলছে না। তুলা কিনে থাকে বে-সরকারী জিনিং মিলের মালিকেরা। তারা এখনও তুলা কেনা শুরু করেনি। চাষির ঘরে উৎপাদিত তুলা মজুত রয়েছে। ১৯’শ টাকা মণ দরে তুলা বিক্রি করে লোকসান হবে বলে চাষিরা জানায়। তারা তুলা মূল্য বৃদ্ধির দাবি করেন। তুলা এ অঞ্চলের একটি অর্থকরি ফসল।
কালীগঞ্জ উপজেলার নরদিহী গ্রামের তুলা চাষি আব্দুল গনি জানান, এবার আড়াই বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেছেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডে কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বীজ কিনেছেন। সব মিলিয়ে তার বিঘা প্রতি ১৭ / ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তুলা লাগান, ২৮’শ টাকা মণ দেওয়া হবে। এখন দাম কমিয়ে প্রতিমণ ১৯’শ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এ দামে তুলা বিক্রি করলে লোকসান হবে। চাষি শফিউল আলম বলেন, ৫ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেছেন। দরপতনে তার পথে বসতে হবে। ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঝিনাইদহ জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন অফিসার মোঃ কুতুব উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে ( ২০১৪ - ২০১৫ ) এ জোনে ৪ হাজার ৫৬ হেক্টরে তুলা চাষ করা হয়েছে। আর্ন্তজাতিক বাজারে তুলার দরপতন হয়েছে। যার প্রভাব আমাদের দেশের বাজারে পড়েছে। জিনিং মিল মালিকদের সাথে বসে তুলা উন্নয়ন বোর্ড দাম নির্ধারন করেছে। তিনি দাবি করেন, এবার তুলার ফলন ভাল হয়েছে।
