যে সব করদাতার করশনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে কিন্তু যথাসময়ে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি তাদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশেষত যাদের ই-টিআইএন রয়েছে তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলগুলোতে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া চলতি বছর গত বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণ আয়কর রিটার্ন দাখিল হলেও একই সময়ের তুলনায় আয়কর কম আদায় হয়েছে। বিষয়টির প্রকৃত কারণও অনুসন্ধানে নেমেছে এনবিআর। গত ৩ ডিসেম্বর সবগুলো কর অঞ্চলে চিঠি দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে এর কারণ জানাতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব কর অঞ্চল ছাড়াও বৃহত্ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ট্যাক্স) ও কেন্দ্রীয় কর অঞ্চলে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অবশ্য সময়সীমা পার হলেও কয়েকটি কর অঞ্চল এর কারন ব্যাখ্যা করে চিঠির জবাব দিলেও বেশির ভাগ কর অঞ্চল থেকেই এখনো কোনো জবাব আসেনি।
বিদ্যমান ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যথাসময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে এককালীন ১ হাজার জরিমান এবং প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। অবশ্য অতীতে খুব কম ক্ষেত্রেই এ আইনির প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে দুই দফা সময় বাড়ানোর পর রিটার্ন দাখিল কাঙ্খিত পরিমাণে না বাড়ায় এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এনবিআর।
সূত্র জানিয়েছে, এ বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ছিল গত নভেম্বর। আর গত বছর এ সময়সীমা ছিল ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এনবিআরের হিসাবে এ বছর ৮ লাখ ৩৩ হাজার রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা আয়কর আদায় হয়েছে। অথচ গত বছর ৮ লাখ ২৮ হাজার রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে ১ হাজার ৬০১ কোটি টাকার আয়কর আদায় হয়েছে।
কর অঞ্চলগুলোতে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, বিগত বছরের চেয়ে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বাড়লেও তুলনামূলকভাবে আয়কর আদায় বাড়েনি। চলতি বছরে প্রত্যেকটি কর অঞ্চলের এ রকম ১০০টি দাখিলকৃত রিটার্ন পর্যালোচনা করে আদায় কম হওয়ার কারন উল্লেখ করে তা দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি কর বর্ষে যে সব করদাতা রিটার্ন দাখিলে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন বর্ধিত সময়ে তাদের রিটার্ন দাখিলে মনিটরিং বাড়ানোর জন্যও বলা হয়েছে।
