পোলো বাওয়া উত্সব

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৫২

সিলেটের বিশ্বনাথে প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছ মারা বা পলো বাওয়া উত্সব প্রতি বছরের মতো এ বছরও পালিত হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে গতকাল সোমবার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বিল (বড়বিলে) বাংলার ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক পলো বাওয়া উত্সব বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

এ বছর বিলে বিভিন্ন জাতের মাছ থাকায় পলো বাওয়া উত্সবে সৌখিন শিকারীরা মাছ ধরে বাড়ি ফিরেছেন আনন্দ নিয়ে। পুরানো দিনের পলো বাওয়া উত্সব দেখতে গোয়াহরি গ্রামে অনেক আত্মীয়-স্বজন, সৌখিন মানুষ এসেছিলেন। অনেক প্রবাসী এসেছেন উত্সবে অংশ নিতে। উত্সবের আনন্দ বড়-ছোট সবার মধ্যে ছিল। অনেক শিশু বিলের পাড়ে বাবা-চাচা-দাদা-মামা-ভাইর হাত ধরে এসেছিল মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সকাল ১০টা থেকে শুরু পলো বাওয়া উত্সব বেলা দেড়টায় শেষ হয়।
উত্সবে শিকারীরা বোয়াল, শোল, গজার,  কার্প জাতীয় মাছ, কালিবাউস, মাগুর, রুই প্রভৃতি ধরেছেন। উত্সবে গোয়াহরি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস াধিক সৌখিন শিকারী যোগ দিয়েছিলেন। উত্সব দেখতে আশপাশের গ্রামের লোকজন সকাল থেকেই ছোট-ছোট দল বেঁধে আসতে থাকেন গ্রামের দক্ষিণের বিলে। বাঁশের তৈরি পলো দিয়ে প্রবীণ আবদুল জব্বার, মাওলানা ইসলামুজামান, জাহাঙ্গীর আলম কয়েছ, নাজমুজ্জামান, আবদুর রব, আবুল কাহ্হার, ইকবাল হোসাইন, গোলাম হোসেন, মাওলানা ইউনূছ আলী, মনোয়ার হোসেন, হাছন আলী, আখলুছ আলী, আব্দুল আলিম, ইছাক আলীসহ প্রায় সকলেই মাছ পেয়েছেন।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর ধরে গোয়াহরি গ্রামের বড় বিলে পলো উত্সব পালন করে আসছেন গ্রামবাসী। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বিলে মাছ শিকার করেন। উত্সব দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উত্সুক মানুষ জানান, খুব ভাল লাগে পলো বাওয়া দেখতে। আমাদের কাছে পলো বাওয়া উত্সব খুব মজার বিষয়। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তারা এ উত্সব দেখতে আসেন। গোয়াহরি গ্রামের মনোয়ার হোসাইন জানান, বিলে মাছ থাকায় প্রায় সবাই মাছ ধরেছেন। খালি হাতে বাড়ি ফেরা সৌখিন শিকারী এবার খুব কম। ছোট্ট শিশু আব্দুল্লাহ আল-আরাফ হোসাইন বললোঃ আব্বুর লগে মাছ ধরাত আইয়া ভাল লাগছে।

ব্যবসায়ী আব্দুর রব বলেনঃ পূর্বপূরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখবে গ্রামবাসী। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. মতছির আলী, আব্দুল ওয়াহিদ, রাহেদ, শফিউল ইসলাম বলেন, পলো বাওয়া উত্সবে অংশগ্রহণ করার জন্য এবার তারা দেশে এসেছেন। একটি ও দুটি করে মাছ ধরে আনন্দের মাত্রা বেড়ে গেছে তাদের।