কুমিল্লায় হতদরিদ্র গ্রাহকদের ৮ কোটি টাকা গায়েব!

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:০৪

কুমিল্লার বরুড়ায় ‘শরাফতি বন্ধন দারিদ্র্য বিমোচন সমিতির’ নামে গত পাঁচ বছর ধরে সহস্রাধিক গ্রাহকের জমাকৃত প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার বরুড়া উপজেলার শরাফতি বাজারে সমিতির কার্যালয়ের সামনে হতদরিদ্র ও প্রতারিত শত শত গ্রাহক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জেলার বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শরাফতি গ্রামে ২০০৯ সালের ৭ জুন ‘শরাফতি বন্ধন দারিদ্র্য বিমোচন সমিতি’ নামে একটি সমিতি কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্নে ঐ সমিতিতে স্থানীয় খায়রুল ইসলাম আক্তারকে সভাপতি, কবির হোসেনকে ব্যবস্থাপক ও ক্যাশিয়ার মো. ফারুককে উপদেষ্টা করে পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। সরকারিভাবে অনুমোদন বা কোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সঞ্চয় আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদান করে গত ৫ বছর যাবত্ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আদায়ের মাধ্যমে কৃষক, দিনমজুর, রিক্সাচালকসহ হতদরিদ্র গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রায়  ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রতারিত গ্রাহকরা তাদের আমানত টাকা ফেরত পেতে গতকাল সোমবার দুপুরে শরাফতি বাজারস্থ সমিতির ওই কার্যালয়ের সামনে ভীড় জমায় ও  আমানত বই হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

আমানত সময়ের মেয়াদান্তে গ্রাহকরা লভ্যাংশসহ তাদের জমা টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করে টাকা ফেরত না দিয়ে একপর্যায়ে কার্যক্রম বন্ধ করে সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখে। শরাফতি বন্ধন দারিদ্র্য বিমোচন সমিতির ব্যবস্থাপক ও ক্যাশিয়ার মো. কবির হোসেন বলেন, সমিতির হিসাব অনুযায়ী আমার নিকট যে টাকা ছিল তা গ্রাহকদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। বাকী টাকা সমিতির সভাপতি খায়রুল ইসলাম আক্তার ও উপদেষ্টা মো. ফারুকের কাছে জমা রয়েছে। সভাপতি খায়রুল ইসলাম আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।