বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল হচ্ছে কোরিয়া। ৬০-এর দশকে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনীতির আকার প্রায় একই ধরনের ছিলো। কিন্তু আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিশ্বের দশম বড় অর্থনীতির দেশ কোরিয়া মাত্র পঞ্চাশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের জাতীয় আয় চারশ গুণ বাড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ব্যবস্থাপকীয় ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে। বাংলাদেশের উন্নয়নে কোরিয়ার এ দৃষ্টান্ত কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও কোরিয়া দূতাবাস আয়োজিত ‘কোরিয়ার উন্নয়ন অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুনসাং কাং এবং সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লী উন ইয়ং, ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কোরিয়ায় সাড়ে ৩৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রফতানি হয়েছে, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ২৫ কোটি ডলার। অর্থাত্ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বাড়ছে।
ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আশির দশকে সর্বপ্রথম ইয়াং ওয়ান বিনিয়োগ শুরু করে। বাংলাদেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড কোরীয় ইপিজেডে ভূমি মালিকানা বুঝে না পাওয়ায় সেখানে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আসছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার অচিরেই এই সমস্যার সমাধান করবেন।
রাষ্ট্রদূত লী উন ইয়ং বলনে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চমত্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিরাজ করছে। এটাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে উভয় দেশই উপকৃত হবে।
এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কাজী আকরামউদ্দিন বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। গত বছরের শেষদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হলেও এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার বয়স ১৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। যুব এ জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য বড় উদাহরণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মূল উপস্থাপনায় খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন, ১৬ বছর আগে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে কেইপিজেডের যাত্রা শুরু হলেও জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। জাপানসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগ করতে এসেও জমির মালিকানা জটিলতায় তা করেনি। স্বল্প আকারে বিদ্যুত্ সুবিধা থাকলেও এ ইপিজেডে নেই গ্যাস সুবিধা। কোরিয়ার অনেক ব্যবসায়ী ভিয়েতনামে বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা করছে।