‘আর রাজনৈতিক সংঘাত চান না ব্যবসায়ীরা’

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২০:২৫
 
 
 
 
‘নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কায় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতি করে এমন রাজনৈতিক সংঘাত আর দেখতে চাই না।’ হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচিও দেখতে চাই না। বুধবার ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি হোসেন খালেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
হোসেন খালেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মোট জিডিপির ২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সব সময় এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চেয়েছেন।’
এ সময় বিদ্যুত্-গ্যাসের অপ্রতুলতা, ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার, অবকাঠামো দুর্বলতা, যানজটসহ মাত্রাতিরিক্ত কর ও শুল্ক কাঠামোকে বিনিয়োগের বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ডিসিসিসিআই সভপতি বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছাড়াও ঋণ প্রবাহে ধীর গতি, গ্যাস-বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অবকাঠামো দুর্বলতায় বিদেশিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। বিদ্যুত্ ও গ্যাসের অভাবে দেশের বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন হুমকির মুখে পড়েছে। শিগগিরই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবর্তন না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গোটা অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যুত্ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নতুন শিল্পকে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। সরকারের নির্দেশ সত্বেও ব্যাংকের ঋণের সুদের হার কমছে না। ফলে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হচ্ছে। সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।’
এ সময় সড়কে তীব্র যানজটে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের (আইইবি) একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘কেবল রাজধানীতে যানজটের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতি ২৭ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন ৩২ লাখ ঘণ্টার বাণিজ্যিক সময় এ বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া, ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ দেরি হওয়ায় বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আইন-শৃঙ্খরা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ, শোয়েব চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সবুর খান, খায়ের মোহাম্মদ খান, আব্দুস সালাম, আসিফ এ চৌধুরী, হোসেন আক্তার, আতিক ই রাব্বানী, ওসমান গনি ও রুমি সাইফুল্লাহ প্রমুখ।