আবাসন শিল্পের বিকাশে এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাইবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট বিক্রি পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। এ অবস্থায় এ খাতের বিকাশে প্রণোদনা দেযা জরুরী। এছাড়া ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে আয়ের উেসর ব্যাপারে যেন কেউ প্রশ্ন না করে তা চালু করা দরকার। মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে আবাসন খাতে ঋণের সুদ হার মাত্র ৩-৪ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এ সুদ হার অনেক বেশি। আবাসন খাতের উন্নয়নে এ খাতে সুদহার কমাতে হবে। ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আসবেন। তখন এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৫ দিনব্যাপী রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার-২০১৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর সামসুল আল-আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রবিউল হক এবং রিহ্যাবের সেক্রেটারি মো. ওয়াহিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্রেতার অভাবে প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রীত পড়ে আছে। ফ্ল্যাট বিক্রি করতে না পেরে বেসরকারি আবাসন খাত জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই এই খাতে সরকারি প্রণোদনা দেয়া দরকার। প্রণোদনা না দিলে এই খাত গতিশীল হবে না। মন্ত্রী বলেন, আবাসন শিল্পের বিকাশে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বস্তিবাসীর জন্যও স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে নগরীর মিরপুর ও খুলনায় তা চালু করা হবে। যাতে করে বস্তিবাসীরা প্রতিদিন ১৭৫ টাকা করে জমা দিয়ে ২০ বছরে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে এ খাতের বিকাশ প্রয়োজন। এ জন্য সরকার চায় সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ফ্ল্যাট করে বিক্রি করতে।
বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, রিহ্যাবের প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রিত রয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই ফ্ল্যাট বিক্রি না হলে রিহ্যাবের সদস্যরা বাঁচতে পারবে না। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব ফ্ল্যাটে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ এখন সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। সুতরাং আগামীতে বিদ্যুতের কোনো সংকট হবে না।
রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, রিহ্যাবের সদস্যদের অবস্থা এখন খুবই নাজুক। উদ্যোক্তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। অনেকে কর্মচারীদের বেতনও ঠিকভাবে দিতে পারছেন না। মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ১১ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ না করে দেশের উদ্যোক্তাদের যে ১০ হাজার রেডি ফ্ল্যাট রয়েছে সেগুলো সরকার কিনে নিতে পারে। এতে দেশের উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবেন।
