ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মহাসড়কের মেঘনা সেতুর উপর একটি লরি বিকল হয়ে পড়লে উভয়দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ কয়েক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে লরিটি অন্যত্র সরিয়ে নিলে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এছাড়া রাত ৩টার দিকে এ মহাসড়কের দাউদকান্দির বারপাড়া এলাকায় আরো একটি লরি ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে যানবাহন চলাচল আবারো বন্ধ হয়ে যায়। এতে এ এলাকার মহাসড়কে নৈশ কোচসহ যানবাহনের যাত্রী ও অ্যাম্বুলেন্সের রোগীসহ বিভিন্ন পরিবহনের মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তবে মহাসড়কে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও ঘন কুয়াশার কারণে ও বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনাসহ কার আগে কে যাবে এমন অসম প্রতিযোগিতায় এলোপাতারি গাড়ি চলাচলের ফলে গত দু’দিন ধরে মহাসড়কের রাতের বেলায় অত্যন্ত ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে।
এসব কারণে দিনের বেলায় গাড়ির চাপে মহাসড়কে হাজার হাজার লরি, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, যাত্রীবাহী বিভিন্ন পরিবহন থেমে থেমে চলাচল করার কারণে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এদিকে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও র্যাবের সদস্যদের কাজ করতে দেখা গেছে।
প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ মোটর সাইকেল ও পিকআপ ভ্যানে করে পুলিশকে যানজট নিরসনে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়। জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়।
মহাসড়কের দাউদকান্দির শহীদনগর, বারপাড়া, গৌরীপুর, পেন্নাই, আমিরাবাদ, হরিপুর, জিংলাতলী, ইলিয়টগঞ্জ ও পদুয়ার বাজার এলাকায় দিনভর ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। রাত ৭টার দিকে মহাসড়কে যানজট অনেকটা কমে আসে।
ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসা পরিবহন যাত্রী ফারুক হোসেন, মেহেদী রহমানসহ কয়েকজন জানান, সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে রওয়ানা করে বিকাল ৫টার দিকে তারা কুমিল্লায় এসে পৌঁছেন। যানজটে মহাসড়কজুড়ে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও বিভিন্ন পরিবহনের গাড়ি আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন এসব পরিবহনের যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।
হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম পিপিএম জানান, বৃহস্পতিবার শুভ বড় দিন ও শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় গাড়ি, প্রাইভেট বাহন, রপ্তানীমুখী ও পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও র্যাবের প্রাণপন চেষ্টায় সন্ধ্যার পর যানজট কমে আসে। তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানবাহন ধীর গতিতে চলাচল করছে।
