উখিয়ায় এমপি বদির নামে বনভূমি দখল

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ০২:১৩

উখিয়ায় এমপি বদির নাম ভাঙ্গিয়ে পাহাড় কেটে ৫০ একর সরকারি বনভূমি দখলের অপতত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে এলাকার সংঘবদ্ধ একদল ভূমিদস্যু। থাইংখালী বনবিটের আওতাধীন বালুখালীর ঢালায় ওই পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন করে ২০টি প্লট ইতিমধ্যেই মোটা অংকের টাকায় হস্তান্তর করার সত্যতা স্বীকার করে থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা বলেছেন, পাহাড় কর্তনের ঘটনায় ২ জনসহ ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা রুজু করা হলেও পাহাড় কাটা ঠেকানো যাচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  পালংখালী ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে ৫০ একর আয়তনের পাহাড়ের ২১ হাজার বর্গফুট জুড়ে ১৮ ফুট প্রস্থ ও ৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রায় ২০টি প্লট করা হয়েছে। এক একটি প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সংলগ্ন বালুখালীর ঢালায় ২০০০ সালে সৃজিত ৫০ একর বনভূমির সব গাছপালা লুটপাটের মাধ্যমে ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত করার মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ওই পাহাড়টির দখল বিক্রির ব্যাপারে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী চৌকিদার রফিক আহমদ জানায়, প্রায় ৫০/৬০ জন ভূমিদস্যু অবৈধভাবে বসতবাড়ি তৈরি করার জন্য পাহাড় কেটে শ্রেণি পরিবর্তন অব্যাহত রেখেছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, প্রশাসনকে মানসিক ভাবে দূর্বল করে সরকারি বনভূমি দখলের জন্য সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির নাম ব্যবহার করছে একজন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বাধীন একটি মহল। এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, উখিয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকা জালিয়াপালং ইউনিয়নে সরকারিভাবে গুচ্ছগ্রাম ছাড়া এ উপজেলায় আর কোন গুচ্ছগ্রামের অনুমোদন দেয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, যতবড় ব্যক্তি বা ক্ষমতাসীন দলের নেতা হোক, সরকারি পাহাড় কাটার সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হউক। থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে অবৈধভাবে বনভূমি দখলের সাথে জড়িত বালুখালী গ্রামের ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে নুরুল আমিন ও মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সমদকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১৮/২০ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করায় ভূমিদস্যুরা তাকে হুমকি দিয়ে আসছে। সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল সরকার জানান, পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নিদের্শ দেয়া হয়েছে।