উন্নয়ন অন্বেষণের ষান্মাসিক প্রতিবেদন

বিনিয়োগের শ্লথ গতিতে জিডিপি অর্জন ব্যাহত হবে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:১৩
 
 
 
 
 
 
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের ষাম্মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক প্রভাবে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নাও হতে পারে। অর্থনৈতিক কারণের মধ্যে মূল কারণ বিনিয়োগের শ্লথ গতি। এছাড়া রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, বহিঃখাতে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতা ও অবকাঠামো অপর্যাপ্ততার আশংঙ্কা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে। অ-অর্থনৈতিক কারণ হিসেবে অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও অকার্যকারিতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চিয়তাকে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের প্রবণতা মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বর্তমান বাস্তবতা অব্যাহত থাকলে ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হয়ে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ হতে পারে। বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে যে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কমছে। যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ ছিল। যা ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৭৫ ও ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়ায়।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে অর্থনীতিতে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি এবং জাতীয় উত্পাদনের কাঙ্ক্ষিত হার অর্জন করা যাবে না। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার মোট লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৮ হাজার ৫ কোটি টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ২৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০১৩-১৪ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ ও ৯৭ শতাংশ।
এদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে খুব কম। বর্তমান অর্থবছরের এডিপির আওতায় ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১৪ শতাংশ অর্থাত্ ১১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। বহিঃখাতের আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি না হওয়ার কারণ হিসেবে রপ্তানি গন্তব্যমুখী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানপোড়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের সময়ে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ের ১ দশমিক ৬৪৯ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১ দশমিক ২৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানিক দুর্বলতা হিসেবে বলা হয়েছে যে, দেশের ব্যাংকিং খাতে বিচিত্র জটিলতা বিদ্যমান। যার  বৈশিষ্ট্য তারল্যের আধিক্য সত্ত্বেও ঋণের উচ্চ সুদ হার, বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের হার হ্রাস, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অকার্যকারিতা, ফাঁকি ও সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার অভাব উল্লেখযোগ্য। অর্থনীতিতে অ-অর্থনৈতিক উপাদান নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ পরিবেশ শিল্প উত্পাদনকে তীব্রভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনে উত্পাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি সাতটি কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করেছে। কৌশল গুলো হলো— উন্নয়নমুখী স্বকীয় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকারী প্রবৃদ্ধি, কর ভিত্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক রাজস্ব আয়, আর্থিক খাতে প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সুদের হারের ব্যাপ্তি কমানো এবং কার্যকরি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি করা।