স্টান্ট থেকে পড়াশোনা সবখানে সমান নাজিব

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৩০

সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্ট শহর রক্ষা বাঁধ হলেও শহরবাসীর অন্যতম প্রধান বিনোদন স্থান এটা। বর্তমানে তাদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে একদল দুরন্ত কিশোর। কখনো একা, কখনো বা দলবেঁধে হ্যান্ডেল ছেড়ে দিয়ে, কখনো হ্যান্ডেলে পা রেখে, কখনো সামনের চাকায়, কখনো বা পিছনের চাকায় ভর করে অনায়াসে সাইকেল চালিয়ে  যাচ্ছে তারা। বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছেন যমুনা নদীর তীরে ঘুরতে আসা মানুষ।

এবার বিজয় দিবসে এই কিশোরদের সাইকেল চালনা দেখে মুগ্ধ হননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরা যে শুধু সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টেই তাদের এই ধরনের সাইকেল চালনা সীমাবদ্ধ রেখেছে তা কিন্তু নয়। কখনো কালেক্টরেট ভবনের সামনে, কখনো পুলিশ সুপার অফিসের সামনে, কখনো বা শহরের ব্যস্ততম প্রধান সড়কে। দ্রুত গতিতে ছুটে আসছে সাইকেল। হঠাত্ দেখো গেলো কিছু দূরে সামনের দু’জন রাস্তায় বসে পড়লো পা ছড়িয়ে। দ্রুত গতির সাইকেল চালক ছেলেটা মোটেও ব্রেক করলো না। সোজা চালিয়ে তার উপর দিয়েই লাফ দিয়ে চলে গেলো সামনে। এটা কোন স্বাভাবিক চাইকেল চালনা নয়। এ ক্রীড়া নৈপুণ্যের নাম ‘সাইক্লিং স্টান্ট’।
দলনেতাকে ধরতেই জানা গেলো তার নাম নাজিব নিনাদ। নিনাদ প্রথমে একা শুরু করলেও তার সাথে এখন অনেক কিশোর ভিড়েছে। মাঝে এক বছর সে আমেরিকায় ছিলো। তার অনুপস্থিতিতে সতীর্থদের প্র্যাকটিস বন্ধ হয়ে যায়। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের কেনেডী-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্ট্যাডি প্রোগ্রামের (ইয়েস প্রোগ্রাম)  স্কলারশীপ নিয়ে সে গত বছর আমেরিকায় যায়। দশম শ্রেণীর মেধাবী এই কিশোর যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা রাজ্যের রাজধানী ফিনিক্স শহরে আমেরিকান স্কুলে অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের জন্য অর্জন করেছে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড ২০১৪। নাজিব নিনাদ ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় এওয়ার্ড প্রাপ্ত প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র। সে পেয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি  বারাক ওবামা স্বাক্ষরিত  কৃতিত্বের সনদ।
আমেরিকাতেও সে সাইকেল স্টান্ট করেছে। এ ছাড়াও স্কেটবোর্ড স্কেটিং, আইস স্কেটিং এ অংশ নেয়া, কলরাডো নদীতে সুইমিং এবং ভার্জিনিয়া, লাস ভেগাস, ক্যালিফোর্নিয়া, হলিউড, টেক্সাস, লস এঞ্জেলেস, ডিজনী ল্যান্ড ভ্রমণসহ প্রকৃতির অপার বিস্ময় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে হাইকিং এর মতো ৫ দিনের  দুঃসাহসী অভিযাত্রায়ও অংশগ্রহণ করেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে উড়িয়েছে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা।
আমেরিকা থেকে ফেরার পর স্টান্টে আগ্রহী কিশোরেরা একটা সংগঠনের আওতায় সাইক্লিংকে জনপ্রিয় করার জন্য নিনাদকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে চায়। নাজিব জানালো, তারা সময় পেলেই দিনে কিংবা রাতেও নিয়মিত প্র্যাকটিস করে। সামনে তার ’ও লেভেল’ পরীক্ষা। তার সহযাত্রীদের মধ্যে অন্যতম রাজিব, সিমুম, মারুফ, নিলয়, রাইম, আরমান, সামিউল, রেজওয়ান, জিম, আদিব, সানিম,  সুদীপ্ত , মুগ্ধ, ইমন, শোয়েবসহ অনেকেই।

 নিনাদের দল রোলিং স্টপি (পেছনের চাকা উঁচু করে চালানো),  হুইলি (সামনের চাকা উঁচু করে চালানো), সার্কেল হুইলি,  (সাইকেলের সামনের চাকা উঁচু করে ঘুরে ঘুরে চালানো),  রোলিং এন্ডো (পেছনের চাকা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে উঁচু করা) সার্ফিং (সাইকেলের ওপরে দাঁড়িয়ে হাত ছেড়ে দেওয়া), বানি হপসহ (কোন কিছুর ওপর দিয়ে লাফ দিয়ে সাইকেল পার করা) ২০/২৫ টির বেশি স্টান্ট শিখে ফেলেছে। নিনাদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত “আলাল দুলাল” নামে  একটি ১০ পর্বের কিশোর ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছে। দুঃসাহসী স্টান্ট প্রসঙ্গে তার বাবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলের আগ্রহকে উত্সাহ যুগিয়েছি। নিজের মতো করে সে বেড়ে উঠুক। সন্তানের যে কোন সৃজনশীলতার পাশে আছি, থাকবো।