পেট্রোল বোমা ওদের করে দিল অপরিচিত!

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ২২:১০
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন মা ও তার দুই সন্তান। পিকেটারদের ছুঁড়ে মারা পেট্রোল বোমায় তাদের মুখ ঝলসে গেছে। পরিবারের সদস্যরা দেখতে গিয়ে চিনতে পারছেন না। অগ্নিদগ্ধ তানজিমুল হক অয়নের মুখ দেখে তার ছোট ভাই মানসুরুল হক ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যান। বিস্ময়ের ঘোর তখনও তার কাটেনি। বিছানায় শোয়া মানুষটি যে তার ভাই, তা যেন তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
 
সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কথা হয় পেট্রোল বোমায় দগ্ধ তানজিমুল হক অয়নের ভাই মানসুরুল হকের সঙ্গে। ভাইয়ের কাছে যেতে গিয়েও তিনি বারবার ফিরে আসছিলেন। অয়নের মুখ পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। শুধু ভাই নয়, মায়ের মুখও দগ্ধ হয়েছে। সঙ্গে থাকা বোন সালমা আনিকার কান ও হাতের কিছু জায়গা দগ্ধ হয়েছে। অয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
 
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের আগের দিন গত রবিবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ায় দুর্বৃত্তরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মা​রলে সেটিতে আগুন ধরে যায়। এতে অয়ন, তার মা শামসুন নাহার বেগম ও বোন সালমা আনিকা দগ্ধ হন। নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে আনিকাকে চিকিত্সক দেখানোর জন্যই ঢাকায় এসেছিলেন শামসুন নাহার।
 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের (বার্ন ইউনিট) অবৈতনিক উপদেষ্টা চিকিত্সক সামন্ত লাল সেন বলেন, অয়নের ৯ শতাংশ এবং তার মায়ের সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গাসহ ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মা ও ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
 
শামসুন নাহার বেগম হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। অয়নের বাবা জাবের উদ্দিন ব্যবসায়ী। অয়নের বড় ভাই মানসুরুল হক চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকে কর্মরত। একমাত্র ছোট বোন আনিকা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে।