জাপানে দেড় কোটি টাকার কুমিরের চামড়া রপ্তানি

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৫৬

ভালুকা উপজেলার হাতীবেড় গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড থেকে এ বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কুমিরের চামড়া রপ্তানি করা হয়েছে জাপানের ‘ফরিউচি ট্রেডিং’ নামে একটি কোম্পানিতে।

ফার্মের চিফ এক্সিকিউটিভ রাজীব সোম জানান, ৪৩০টি কুমিরের চামড়া থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হয়েছে। তার মতে, চামড়া আমদানিকারক জাপানের প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর এ ফার্ম থেকে চামড়া আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। রাজীব সোম স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, কুমিরের চামড়া এ দেশ থেকে প্রথম রপ্তানির জন্য বিভিন্ন প্রকার অফিসিয়াল প্রসেস করতে গিয়ে একটু বেগ পেতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। এখন থেকে এটি সহজ হবে। রাজীব সোম জানান, তারা বিভিন্ন সময় স্কিন যাচাই করে আমাদেরকে কিছু টার্গেট দিয়ে যায়। সে অনুযায়ী ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ‘এ’ গ্রেডের চামড়া আমাদের রপ্তানির টার্গেট রয়েছে। এ বছর হয়তো ১৫-২০ শতাংশ ‘এ’ গ্রেড পেতে পারে। মূল্যের ক্ষেত্রে গ্রেডিং প্রধান বিষয়। আমরা আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে চেষ্টা করব ‘এ’ গ্রেডকে সুপার গ্রেড ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ গ্রেডের চামড়াগুলোকে ‘এ’ গ্রেডে নিয়ে আসতে।
তিনি জানান, সাধারণত ছোট ফার্মগুলো থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশগুলোতে রপ্তানি করতে পারলেও জাপানে চামড়া রপ্তানি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। কারণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত বাজার এটি। অস্ট্রেলিয়া কিংবা ফ্রান্সের বাজার দখল করতে চাইলেও এক ধাপে উন্নীত হওয়া সম্ভব নয়। আমরা এশিয়ার সর্বোচ্চ বাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছি। এ বছর কুমিরের মাংস ‘ড্রাইভিট’ হিসেবে বিক্রি করা হবে। আগামীতে তা বিদেশে এক্সপোর্ট করতে পারবো। কুমিরের হার ও মাংস দুটোই রপ্তানির চেষ্টা হবে। তিনি বলেন, এ বছরই বাংলাদেশ প্রথম কুমিরের চামড়া রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম লেখালো।

ভালুকার উথুরা ইউনিয়নের হাতীবেড় গ্রামে ২০০৪ সালে ৭৫টি কুমির নিয়ে প্রকল্পের যাত্রা শুরু করেছিল রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড। ২০১০ সালে জার্মানিতে গবেষণার জন্য ৬৭টি কুমির রপ্তানি করা হয়। যা ওই সময়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রথম রপ্তানিকৃত কুমির। বাংলাদেশে আবহাওয়া কুমির চাষের জন্য যেমন উপযোগী তেমনি বিদেশেও রয়েছে কুমিরের প্রচুর চাহিদা। দু’বিষয়কে সমন্বয় করলে খুব সহজেই অনুমেয় বাংলাদেশ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় কুমির নিয়েও এগুতে পারে। কারিগরি সহায়তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা পেলে বাংলাদেশের কুমির মালয়েশিয়া, জাপান, জার্মানিসহ কয়েকটি উন্নত দেশের বাজার দখল করতে সক্ষম হবে। ২০০৪ সালে প্রকল্পের যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালেই প্রথম রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম লেখায় বাংলাদেশ।