মাঝ পদ্মায় রাত কাটালেন নৌমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:৪১

ঘন কুয়াশার কারণে মাঝ পদ্মায় দীর্ঘ ১৫ ঘন্টা আটকে থাকার পর নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি মুক্ত হয়েছেন। তাদের বহনকারী ফেরি কাকলী ও কর্ণফুলী সোমবার বেলা পৌনে ১২টা ও পৌনে দু’টায় শিমুলিয়া ঘাটে নোঙর করে। এর পূর্বে রবিবার রাতে কাওড়াকান্দি থেকে রওনা দিয়ে এই দুই ভিআইপি কুয়াশার কারণে মাঝ পদ্মায় আটকা                 পড়েন। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ সাড়ে ১২ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস সোমবার বেলা ১১ টায় আবার চালু হয়েছে। এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফেরি বন্ধ থাকায় এই কনকনে শীতে যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহায়।

শিমুলিয়া ঘাটে কর্মরত মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার (বাণিজ্য) সিরাজুল হক জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সরকারি কাজ শেষে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে রবিবার রাত পৌনে ১০টায় ফেরি কাকলীতে করে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। এর আধাঘন্টা পর রাত সোয়া ১০টায় বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় কাজ শেষে ঢাকার উদ্দেশে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ফেরি কর্ণফুলীতে করে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু প্রায় দেড় কিলোমিটার এগুতেই শিবচর উপজেলার বাংলাবাজারের চেয়ারম্যান বাড়ির কাছে এসেই রাত সাড়ে ১০টায় ঘন কুয়াশায় পদ্মা নদীতে আটকা পড়েন তারা। আওয়ামী লীগের এই দু’নেতার ফেরি রাতভর কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন।
এদিকে রবিবার রাত থেকে কাকলী ও কর্ণফুলীসহ মাঝ পদ্মায় সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে ১০টি ফেরি আটকা পড়েছিল। বাকি ফেরিগুলো হচ্ছে- শাহ পরান, আমানত শাহ, বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন, রানীক্ষেত, রানীগঞ্জ, থোবাল, রায়পুরা ও কলমীলতা। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় সোমবার সকালে দু’পারে নাইট কোচসহ ৬ শতাধিক যান পারাপারের অপেক্ষায় ছিল।
সিরাজুল হক আরও জানান, কুয়াশার কারণে নদীর মার্কিং পয়েন্ট ও বিকন বাতিগুলো দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি সার্ভিস রবিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে বন্ধ রাখা হয়।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে
সাড়ে ১১ ঘন্টা ফেরি বন্ধ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে কুয়াশার কারণে প্রায় সাড়ে ১১ ঘন্টা ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফেরি বন্ধের পাশাপাশি সোমবারের হরতালের কারণে আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার কারণে রবিবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে দৌলতদিয়া থেকে এবং রাত দশটা থেকে পাটুরিয়া প্রান্ত থেকে ফেরি ছাড়া বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফেরি বন্ধের আগে উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রোরো ফেরি খানজাহান আলী, শাহ জালাল, কে টাইপ ফেরি কপোতি ও ইউটিলিটি ফেরি বনলতা এবং হাসনাহেনা যানবাহন নিয়ে মাঝ নদীতে আটকা পড়ে। গতকাল সকাল সোয়া নয়টার দিকে কুয়াশা কমে আসার পর ফেরি ছাড়লেও হরতালের কারণে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার রাতে কুয়াশায় ফেরি বন্ধের পর সোমবার সকালে চালু হলেও পাঁচশ’র মতো আটকে থাকা যানবাহন পার করা হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাটে আটকা পড়ে তিনশ’ ট্রাকসহ চার শতাধিক যানবাহন।
ঢাকা-স্বরূপকাঠি-ভাণ্ডারিয়া
নৌপথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত
স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা—স্বরূপকাঠি—ভাণ্ডারিয়া নৌপথের যাত্রীবাহী লঞ্চসমূহের নির্ধারিত সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটেছে। লঞ্চসমূহ নির্ধারিত সময়ের ৭/৮ ঘন্টা পরে পৌঁছার ফলে তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বৃদ্ধ নারী—পুরুষ ও শিশুরা। একইভাবে স্বরূপকাঠি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না।

রাজদুত-৭ লঞ্চের সুপার ভাইজার মো. জসিম জানান, রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় সদরঘাট থেকে ভাণ্ডারিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা রাজদুত ৭ লঞ্চটি স্বাভাবিক সময়ে স্বরূপকাঠি আসে পরের দিন ভোর ৫টার দিকে। কিন্তু সোমবার ঐ লঞ্চটি সাড়ে বারোটার দিকে এখানে এসে পৌঁছেছে। রণদুত প্লাস দেড়টায় এবং টিপু দু’টার দিকে স্বরূপকাঠি এসে পৌঁছেছে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে স্বরূপকাঠি-ঢাকা সড়ক পথে চলাচলকারী বাসসমূহ নির্ধারিত সময়ের ৬/৭ ঘন্টা পর এখানে আসে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকার গাড়িও পৌঁছে নির্ধারিত সময়ের ৫/৬ ঘন্টা পর।