হবিগঞ্জে সাবেক অর্থ মন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার পর জামিন প্রার্থনা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে তিনি হাজির হন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর মেয়রের আদালতে আত্মসমর্পনের খবর পেয়ে শত শত দলীয় নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। এছাড়া সিলেট থেকে মেয়রপত্নি শ্যামা হক চৌধুরী, সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলার, বিএনপি নেতা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত হন। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। জনতার সম্মুখে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, এলাকার খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব মরহুম কিবরিয়া হত্যা মামলায় দীর্ঘ ৯ বছর পর দাখিলকৃত সম্পূরক চার্জশিটে ষড়যন্ত্রমূলক আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্বপ্নেও ভাবিনি এই মামলায় আসামি হব! মহান আল্লাহ তায়ালা আলীমুল গায়েব, সত্যের জয় হবেই। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল ও দেশবাসীর কাছে আমি বিচার চাই। মেয়র না হলে হয়তো আমি এই মামলায় আসামি হতাম না। আমার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও সন্তানদের আল্লাহ ও সিলেটবাসীর কাছে হাওলা করলাম। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। অতীতে কোন চক্রান্তই সফল হয়নি, ইনশাআল্লাহ আমার বেলায়ও তা হবে না। ন্যায় একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই আদালতে আত্মসমর্পন করছি।
সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আদালত এলাকায় উপস্থিত হওয়ার খবর প্রচার হলে কোর্ট প্রাঙ্গণে দলীয় আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা ভিড় জমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মামলার শুনানি শুরু হলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের স্বপক্ষে তাদের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। প্রায় ৪২ মিনিট শুনানির পর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার জামিন প্রার্থনা নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
