আবাসন খাতে ঋণসীমা বাড়ল

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:৩৪
 
গাড়ির পর এবার ব্যক্তি পর্যায়ে আবাসন খাতে ঋণ সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে ব্যাংক থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। আগে এ সীমা ছিল এক কোটি টাকা পর্যন্ত। তবে ঋণ মার্জিন অনুপাত আগের মতোই ৭০:৩০ নির্ধারিত থাকবে। এর আগে গত আগস্ট মাসে গাড়ি কেনায় ঋণ সীমা ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছিলো। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন  জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আবাসন ও রিয়েল এস্টেট নির্মাণ সামগ্রির দাম বাড়ার ফলে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবিলম্বের এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। নির্দেশনায় ভোক্তা ঋণের আওতায় এসব ঋণ বিতরণ করতে বলা হয়েছে।
ভোক্তা ঋণের পুরোটাই অনুত্পাদনশীল খাতে ব্যয় হওয়ায় এটি বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশংকা থাকে। এ কারণে বেশিরভাগ সময়ে এধরনের ঋণ নিরুত্সাহিত করা হয়। তবে সাম্পতিক সময়ে আবাসন খাতের প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রি কমে যাওয়ায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এতো দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও ব্যাংকগুলোর কাছে এখন প্রচুর অলস অর্থ পড়ে থাকা ও মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিন্মমুখী থাকায় এধরনের সিদ্ধান্ত নিল। নতুন নির্দেশনার ফলে আবাসন খাতের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে বেশি ঋণ নেয়া যাবে। তবে ঋণ মার্জিন অনুপাত আগের মতোই রাখায় নিজের ৩০ টাকার বিপরীতে ব্যাংক থেকে ৭০ টাকা ঋণ নিতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতে মোট ঋণ এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০০৪ সালের ভোক্তা ঋণ নীতিমালার আওতায় আবাসন ও গাড়ি কেনায় ঋণ দিয়ে থাকে। ওই নীতিমালায় আবাসন বা রিয়েল এস্টেটে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলা হয়। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সুদ হার নির্ধারিত হলেও ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ঠিক করে দেয়া হয় ৬ বছর। আর ঋণ মার্জিন অনুপাত নির্ধারণ করা হয় ৮০:২০। এতে করে আবাসন খাতে ঋণ অনেক বাড়তে থাকে। পরবর্তিতে নীতিমালা সংশোধন করে ২০১০ সালে ঋণ মার্জিন অনুপাত নামিয়ে আনা হয় ৫০:৫০। এর পরে ২০১২ সালে আবার ঋণ মার্জিন অনুপাত বাড়িয়ে ৭০:৩০ নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।