আলোচনায় বসার তাগিদ ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৫, ২০:২৪
 
আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তারা নতুন বছরের শুরুতেই হরতাল ও অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকার উদ্যোগী হয়ে আলোচনার টেবিলে বসার পদক্ষেপ নিতে পারে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তারা এ প্রস্তাব দেন। মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের নেতৃত্বে সংগঠনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তারা দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন আর হরতালে সমর্থন করে না। দেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। আমাদের রপ্তানি বেড়েছে, রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ছে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডলে গতি ফিরে এসেছে। এমতাবস্থায় দেশের জনগণ কোনো ধরনের বিশৃঙখলা সহ্য করবে না। কাজেই কোনো দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আর কোনো সুযোগ নেই। এমন কিছু করার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এসময় চেম্বারের সহসভাপতি আনিস এ খান, সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদ, সদস্য ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, কামরান টি রহমান, আকতার মতিন চৌধুরী, তাবিথ এম আউয়াল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এমসিসিআইর ১১০ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রকাশিত একটি বই অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়।
চেম্বারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং সমস্যা, শিল্পায়নে ভূমির অভাব, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় নীতিমালার বিষয় তুলে ধরেন। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে বেশি সোচ্ছার। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে ততোটা খেয়াল করছে না। চেম্বার নেতারা বিভিন্ন শিল্পকারখানার অব্যবহূত জমি নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে বরাদ্দ প্রদানেরও প্রস্তাব করেন।
বৈঠকে এমসিসিআইর পক্ষ থেকে ব্যবসার ব্যয় কমানো, ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে আনা; শিল্পখাতে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কয়লা নীতি প্রণয়ন, অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, শিল্প স্থাপনে জমির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় নীতিমালা যুগোপযোগী করা, আর্থিক বছর এপ্রিল-মার্চ নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়েও সুপারিশ করে এমসিসিআই।