হাজীগঞ্জে আসামি ছিনতাই, মামলা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:১৭

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাকিলা বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব কুমার সিংহ বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় ৩৬ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাকিলা ইউনিয়নের স্বর্ণা গ্রামের মো. রাসেল (২৯), মোক্তার হোসেন (২৮), রিপন (৩৭), গোগরা গ্রামের হৃদয় (১৯), বাকিলা গ্রামের মফিজুল ইসলাম (৪২), চটন্তর গ্রামের আবদুল মালেক (৪২) ও সদর উপজেলার দাসাদি গ্রামের বিল­াল হোসেন (২৫)।
থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে হরতালের দায়িত্ব পালনের সময় এস. আই বিপ্লব কুমার সিংহ বাকিলা পশ্চিম বাজার এলাকা থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গাজী নাছিরকে আটক করেন। তাকে গাড়িতে তোলার সময় বাজার উপস্থিত বিএনপির সমর্থক ও জনতা পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করে ছিনিয়ে নেয়।
নাসির গাজী বাকিলা গ্রামের নুরুল ইসলাম গাজীর ছেলে। তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বহু অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, নাসির গাজীকে আটক করার পর পুলিশ তার জামার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তিনি কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে পারেননি। যার কারণে জনতা উত্তেজিত হয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। তা ছাড়া আটক করার সময় হাতকড়া লাগানো হয়নি।
 তবে বিপ্লব কুমার দাবি করেন, নাছিরকে গাড়িতে উঠানোর সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জনতার সহায়তায় তাকে ছিনিয়ে নেয়। হাতকড়া না লাগানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হরতালের দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে সামনে পেয়ে তাকে ধরে ছিলাম। সাথে হাতকড়া ছিলো না।
তবে থানা হেফাজতে থাকা রাসেল, ­বিল্লাল ও অন্যরা দাবী করেন, নাছিরকে ধরার সময় উত্তেজিত জনতাকে আমরা থামানোর চেষ্টা করেছি। পুলিশ আমাদের সাথে আওয়ামী লীগের কয়েকজনকেও ধরেছিল। আওয়ামী লীগের লোক হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ্আলম জানান, নাছির গাজীর বিরুদ্ধে গত বছরে হরতালে বাধা দেয়া ও ভাংচুরের অভিযোগ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। নাছির গাজী ও জড়িতদের একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে মূল আসামিকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।