কোনভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না ব্যাংকের চেক জালিয়াতির ঘটনা। ব্যাংকে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের কষ্টের জমানো কোটি কোটি টাকা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এ ধরনের বেশ কয়েকটি চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হলেও এই জালিয়াতি থেমে নেই। এই চক্রটি চেকের ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টর রিকগনিশন (এমআইসিআর) নম্বর জাল করছে। এমন ঘটনার শিকার গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। জাল চেক দিয়ে টাকা উত্তোলনের পর কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরুণ বাবদ পাওয়া অর্থ ভূক্তভোগী গ্রাহকের একাউন্টে জমা করা হচ্ছে। তবে বড় জালিয়াতির ঘটনাগুলোর সুরাহা করতে পারছে না কোন ব্যাংকই।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে চেক জালিয়াতি রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। এক্ষেত্রে ব্যাংককে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকের স্বাক্ষর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখা, এক লাখ টাকার চেক হলেই গ্রাহককে জিজ্ঞাসা করার বিধান ঐ নির্দেশনায় দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি জাল চেকে টাকা উত্তোলন হয়, তাহলে ব্যাংককে এর দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট একাউন্টের গ্রাহক টাকা না তোলার বিষয়ে যদি নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তাহলে ঐ ব্যাংকই এর সমাধান করে দিবে।
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, ব্যাংকের চেক জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা অনেক শক্তিশালী। তাদের সঙ্গে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। ঐসব অসাধু কর্মকর্তারা এসব চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেয়া টাকার ভাগ পান। ব্যাংক থেকে গ্রাহকের তথ্য বাইরে না আসলে এ ধরণের চেক জালিয়াতি সম্ভব নয়।
সূত্রে জানা গেছে, সামপ্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে চেক জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রতিমাসে ২০-২৫টি চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে (সিআইপিসি) জমা পড়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থার নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকের চেক ইস্যুতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টর রিকগিনশন (এমআইসিআর) বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও জাল চেকের চক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না।
