চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এক স্বাস্থ্যকর্মীকে গণধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রেজাউল করিম এ রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে আদালত প্রত্যেককে একলাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও করেছেন।
দণ্ডিত আসামিরা হলেন- বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণ জলদি গ্রামের মোহাম্মদ কালুও মো.আবুল হোসেন ও শফি আলম। এদের মধ্যে শফি কারাগারে থাকলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন। ধর্ষিত নারীও একই এলাকার বাসিন্দা এবং ব্র্যাকের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ট্র্যাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জেসমিনা আক্তার আদালতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ১২ জুন বাঁশখালীর দক্ষিণ জলদি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সন্ধ্যায় দণ্ডিত তিন যুবক জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে ২০০৫ সালের ১৪ জুন বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ২১ আগস্ট আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৩ সালের ৫ জুন আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগপত্রের ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/১ ধারায় প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। একই রায়ে আসামিদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করে ভিকটিমকে দেয়ার ব্যবস্থা করতে জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
